Tuesday, 14 January 2025

শ্রীশ্রীঠাকুর রামচন্দ্রদেব

হঠাৎ চাদর ফেলিয়া উঠিয়া ঠাকুর উঠিয়া বসিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি এইখানে বইসা আছ কেন? আমি দরজার খিল খুলিয়া দিয়া উত্তর দিলাম, "তোমাকে পাহারা দিচ্ছি।"
ঠাকুর ---- তুমি চাদর তুইলা দেখছ?
উত্তর ---- চাদর তুলতে হবে কেন? চাদরের ওপর দিয়ে পরিষ্কার দেখা গেছে তুমি এখানে নাই। তখন চাদর সম্পূর্ণরূপে উঠিয়ে দেখেছি।
ঠাকুর ---- তাতে লাভ কি হইল?
উত্তর ---- লাভের জন্য দেখিনি, দেখবার জন্য দেখেছি। তুমি কোথায় গিয়েছিলে? তোমার দেহ সৌরভে সমস্ত ঘর সৌরভময় হয়েছে কেন?
এই সময় আমার পিতা, মাতা, বড়দা, বড়দি ও ঠাকুরভাই আসিলেন।
ঠাকুর---- দেবীপূজায় গেছিলাম। সেইখানের দেবগন্ধ এখনও দেহে লাইগা আছে। সেইজন্য এই সৌরভ পাইতেছ।
প্রশ্ন---- কি করে গেলে, পুনরায় চাদরের নিচে এলে, কিছুই দেখতে পেলাম না ।
ঠাকুর---- এইগুলি কিছু না। প্রয়োজন হইলে দেহ সমেত যত্রতত্র বিচরণ করা যায়। অনিমা সিদ্ধির কাজ চোখে দেখা যায় না। এই সঙ্গে লঘিমা সিদ্ধি কাজ কইরা যায় ।
-জয় রাম 🌺🌿
(ফনীন্দ্র কুমার মালাকার এর সহিত ঠাকুরের কথোপকথন)
"রামভাই স্মরণে"

 

প্রাণ গোবিন্দ প্রাণ গোপাল—কেশবঃ মাধবঃ দ্বীনঃদয়াল
দ্বীনঃদয়ালু প্রভু দ্বীনঃদয়াল পরমদয়ালু প্রভু পরমদয়াল
গুরুর নামোঃ বৈ কেবলম্ — গুরুই কৃপাহি্ কেবলম্।।।।
জয় রাম । 
সকল বন্ধু ও গুরু ভাই বোনদের জানাই.
শুভ সুপ্রভাত
শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবনী অবলম্বনে (২৪)🌹
"বাবা! গুরু ভিন্ন কি ঈশ্বর লাভ হয় না?"
ঠাকুর ----- গুরু ভিন্ন এ জগতে কিছুই লাভ হয় না। আপনি যাগ কাছে খাইতে, হাঁটতে, কথা বলতে, কাজ করতে শিখছেন সকলেই গুরু বই নন। ধর্মজগতেও একই কথা। আগুন সর্বত্রই আছে, পাথরের মধ্যেও আছে, শূণ্যেও আছে, শুকনা কাঠের মধ্যেও আছে। থাকলে হইব কি? আগুন পাওয়া যাইব কিভাবে? যেইখানে আগুন জ্বলছে সেইখানে গেলে অতি সহজে পাওয়া যাইব। সেইরূপ ব্রহ্ম বা ঈশ্বর চিন্ময়রূপে সর্ব্বলোকব্যাপী বিরাজ করলেও ব্রহ্মবিদ্ গুরুর আশ্রয় ভিন্ন ব্রহ্ম দেখাও যায় না, ধরাও যায় না। যেহেতু একমাত্র ব্রহ্মবিদ্ গুরুতেই ব্রহ্মের চিন্ময় শক্তি বিশেষভাবে বিকশিত হইয়া আছে। সুতরাং ব্রহ্মবিদ্ গুরু ভিন্ন ঈশ্বরলাভ অসাধ্য বই কি?
জয়রাম🌺🌿
"রামভাই স্মরণে "-ফনীন্দ্র কুমার মালাকার ।
ঠাকুরমশাই যখন চৌমুহনীর বাড়িতে আসতেন তখন সাদা ধবধবে চাদর পাতা একটা খাটের উপর বসতেন, আর ভক্তমন্ডলি রঙ্গিন শতরঞ্চি পেতে নিচে বসতেন। ভক্তরা তাঁদের প্রিয় খাবার ও ফল ঠাকুরমশায়ের জন্য আনতেন। আমি ও ছোট ভাই বাচ্চু দরজার পাশে দাঁড়িয়ে দেখতাম। যখন কোন লোভনীয় ফল দেখতে পেতাম, আমরা ঠাকুরমশায়ের কাছে গিয়ে টুক করে প্রনাম করে হাত বাড়িয়ে দিতাম। ঠাকুর মশাইও হাসিমুখে নির্দিষ্ট ফল আমাদের হাতে তুলে দিতেন। একদিন বাবা ভেতর বাড়িতে এসে মাকে বললেন, "ভক্তরা কত আশা করে ঠাকুরমশায়ের জন্য ফল মিষ্টি নিয়ে আসেন, তিনি যদি একটু দয়া করে গ্রহণ করেন। কিন্তু ঠাকুরমশায় তা গ্রহণ না করে আমার ছেলেমেয়ের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এতে তারা মনে কষ্ট পায়।" এই বলে একটি টেবিলের পায়ার সঙ্গে আমাকে ও বাচ্চুকে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখলেন। বাইরে বাড়িতে বসা ভক্তরা কেউই কিছু টের পেলেন না। কিছুক্ষণ পর বাবা ভালো মানুষের মত ঠাকুরমশায়ের কাছে গিয়ে বসতেই তিনি বলে উঠলেন, "ওদের বাইন্ধ্যা রাখছেন ক্যান, ওদের ছাইরা দেন, ওরা খাইলেই আমার খাওয়া হয়।"
কিছু কথা
"শবরী"
শ্রীমতী রঞ্জু সাহা
"হে দয়াময় আমি অজ্ঞান-অধম-পথভ্রষ্ট-অসহায়-
বিবশ। তুমি নিজগুণে আমায় ক্ষমা কর,কৃপা করে তোমার শরণ দাও।"
জয় রাম
গুরু কৃপাহি কেবলম্
ন কত্তৃ"ত্বং ন কম্মানি লোকস্য সৃজিত প্রভুঃ।
নাদত্তে কস্যচিৎ পাপং ন চৈব সুকৃতং বিভুঃ।
অজ্ঞানেনাবৃতং জ্ঞানং তেন মুহ্যন্তি জন্তবঃ
অতত্রব মনের লাভ লোকসানের অধীন না হইয়া সর্বদা সত্যনারায়নের অধীন থাকিতে অভ্যাস
করিতে করিতে সত্যের শরনের লাভ করিয়া জন্ম মৃত্যু পথ রুদ্ধ হইয়া যায়,সত্যকে পাইতে পারে।
জয় রাম জয় গোবিন্দ 🙏
বেদবানী ১খন্ড(৩৩৩)

শ্রীশ্রীঠাকুর কখনও কৈবল্যনাথ, কখনও সত্যনারায়ণ, কখনও সত্যপীর, কখনও শ্রীভগবান, কখনও শ্রীকৃষ্ণ, কখনও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু, কখনও শ্রীহরিরুপে প্রকাশিত হইয়াছেন ভক্তগণের দিব্য চোখে।কালী, দুর্গা, শিব রুপেও তাঁহাকে কোন কোন ভক্ত দর্শন পাইয়াছেন। অবতারই বলি আর দেবতাই বলি, তাঁহারা জন্মগ্রহণ করেন এই বিশ্বলোকের ঘরে ঘরে পিতামাতার কোলে। তাহার পর ঘটে তাঁহাদের মাঝে ভাগবতী প্রকাশ। জীব রুপান্তরিত হয় শিবে। নাম ধারণ করেন ভাগবতী তনু। তিনিই যখন মিলনের আকাঙ্ক্ষায় ছুটিয়া আসেন। আমরা তখন তাঁহাকে দূরে সরাইয়া দিতে চাই। তাই তো তাঁহাকে প্রতিষ্ঠিত করি বেদির বৈকুণ্ঠে। আমরা তোমারি দাস। সংকোচ আর সংশয়ে আড়ষ্ট হই। কিন্তু তিনি তখনো ডাকেন, লইয়া যাইতে চান। যাঁহারা কখনও সখী হইলেন, তাঁহাদের বিচ্ছেদ নাই। তাঁহারা সদানন্দে থাকেন।সর্বলৌকিক ব্রহ্মজ্ঞ শ্রীশ্রীরামঠাকুর উদঘাটিত করিলেন সাধন জগতের অমোঘ সত্য। শ্রবণ করাইলেন ঈশ্বরপ্রাপ্তির সহজ সরল পথ ও পন্থা। তাই তো শ্রীশ্রীঠাকুর পতিতপাবন। দুঃখীর দরদী, নিঃস্বের বন্ধু, ভক্তের ভগবান।
আমার গুরু ভবসিন্ধু
আমার করুণাসিন্ধু
যে যেথায় গোবিন্দ ভজে
সে-ই তাঁরে পায়।
শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ স্মরণে,
ডাঃ খগেন্দ্রনাথ গুপ্ত।
ভগবানের শরণ নিয়া থাকিলেই পরিণামে শান্তির উপর স্থান প্রাপ্ত হয়। ইহ জগতে দেহের সঙ্গেই ভাগ্য অনুসারে ফলাফল ভোগ হইয়া থাকে। পরশ্রীতে কাতরতা কেবল মূর্খের সম্পদ বলিয়া জানিতে হয়। ভাগ্য অনুসারে শারীরিক, মানসিক সুখ দুঃখাদি আবর্ত্তন হইয়া জীবভাবে মন্ডিত থাকে। জ্ঞান অজ্ঞানের বশবর্ত্তী হয়। সংসার মায়াময়, ভগবৎ শরণে কেবল দেহ নাশেই দৈহিক, মানসিক সন্তাপাদি ভোগের দ্বারা মুক্ত হইয়া থাকে। দেহে গুণের হ্রাস বৃদ্ধি অনুসারে দেহে সহ অসহ যাতনা, সুখ দুঃখ, পাপ পুন্য, ধর্ম্ম অধর্ম্মাদি ইত্যেকার জ্ঞান জন্মে। ইহাকেই প্রারব্ধ বলে, এই প্রারব্ধ ভোগ ভিন্ন শেষ হয়না বলিয়া ঈশ্বরের শরণ নিয়া পড়িয়া থাকিতে হয়। পাপ পুণ্য ধর্ম্মাধর্ম্মে লক্ষ্য রাখিতে নাই। প্রাক্তনে যাহা হয় আছে তাহা ভোগ করিবে, দেহান্তে ভগবৎ পদ, গুরুবাক্য যাহা নির্দ্দেশ করিয়াছে তাহা পাইবে, সন্দেহ নাই। মনের শান্তি অশান্তির ধার না নিয়া অকর্ত্তা হওয়ার চেষ্টা করিবে।
জয়রাম জয়গোবিন্দ
ভাগ্য বশেই এই জগৎ চালিত হইতেছে। ভাগ্যকে ছাড়া কোথাও থাকা,যাওয়া চলে না। ধৈর্য্য সম্পদ সর্বত্র বিজয়ী বলিয়া মহাজনেরা বলিয়া থাকে ‌সাহস,বল, সামর্থ্য ধৈর্য্য হইতেই লাভ করিয়া থাকে। ভয়,শোক,সন্তাপ হইতেই আতঙ্কের সৃষ্টি হইয়া থাকে। সত্যের সেবা বশে এই সকল কলুষ বিনষ্ট হইতে পারে।
জয় রাম জয় গোবিন্দ 🙏
বেদবানী ১খন্ড(৩৫০)
ভুলোনা মায়ার প্রলোভন, অস্থায়ী অভিমানে।
সুখ দুঃখ যাবে আসবে স্ব স্ব ভাগ্য দুর্ভাগ্য গুণে।।
জীবনটা ছেড়ে দিয়ে নিয়তির হাতে ডুবে থাক নামে।
সকল বন্ধন মুক্ত হয়ে আত্মা চলে যাবে নিজ ধামে।।
--ইহাই মুক্তি।
শ্রীশ্রীরামঠাকুর


অধিকাংশ হিন্দুগৃহেই শ্রীশ্রীলক্ষ্মীদেবীর আসন স্থাপিত আছে। নিত্যপূজা ছাড়াও মেয়েরা বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর ব্রতকথা পাঠান্তে পূজা করে থাকেন। ঠাকুর এই প্রথার বিশেষ প্রশংসা করতেন। তিনি বলতেন, "শ্রাদ্ধভক্তিসহ লক্ষ্মীপূজা করলে লক্ষ্মীর কৃপালাভ হয়, কোন অভাব থাকে না।"
জয়রাম 
'শ্রীশ্রীঠাকুর রামচন্দ্রদেব'- শ্রীসুশীলচন্দ্র দত্ত
 ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
 বেদ বাণী প্রথম খন্ড (৩৩)
সম বুদ্ধির দ্বারা দৈহিক গুণ জাত প্রারব্ধ ভোগ দন্ড খায় ক্ষয় করিতে হয়।ভোগ মোক্ষ হইলেই জীবন দশা প্রাকার মুক্ত হইয়া মানবত্ব চলিয়া যায়।ব্রজবাসী যোগে নিত্য সেবাধিকারীর শক্তির সাহায্যে নিত্য সেবার যোগ লাভ করিতে পারিবেন। যখন যে অবস্থায় যে যে বিষয় আধি পণ্য করিয়া মন বুদ্ধিকে চঞ্চল করে তাহা ক্রমশঃ সহীষ্ণুতা শক্তির আবরণ করিয়া অভ্যাস বশে রাখিতে চেষ্টা করিবেন, বিফলতা থাকিবেনা। মনের শান্তি সুখাদি যাহা যোগ দান করেন সকলি অনিত্য, অস্থায়ী, ভ্রান্তি মাত্র জানিবেন। সর্বদা কেবল পতিত হইয়া তাঁহারই সম্মুখ পৃষ্ঠভঙ্গ বর্জীত হওয়াই জীবের পরম ধর্ম
 
আমি (ফনীন্দ্র কুমার মালাকার )- ঠাকুরকে বলিলাম --- "ঠাকুর, শুনেছি আত্মা নিত্য শুদ্ধ, নিত্য মুক্ত। তবে কেন আপনার এত বিকৃত অবস্থা ঘটে?
ঠাকুর --- আত্মার বিকৃত অবস্থা কখনো হয় না। আত্মা সর্বকাল এক অপরিবর্তনশীল অধিকৃত অবস্থায় বিরাজ করে। আত্মার বিকৃত অবস্থা বইলা যা মনে হয় তা আত্মার নয়। আকাশে সূর্যের একখান ঘন কৃষ্ণ মেঘে আচ্ছাদিত করলে সূর্যের স্বীয় চিরন্তন অবস্থায় যে রকম কোনো পরিবর্তন হয় না, সেই রকম আত্মা, প্রকৃতিজাত মন, বুদ্ধি, অহংকার, দশ ইন্দ্রিয় দ্বারা আচ্ছাদিত হইলেও আত্মা স্বীয় অপরিবর্তনীয় অবস্থায় বিরাজ করে। আবৃত অনাবৃত সকল অবস্থায় আত্মা অবিকৃত। বিকৃত অবস্থা হয় মনের। আবরণ শূন্য নাম দ্বারা এই মনরে মুক্ত করতে হইব। তখন জন্ম মৃত্যুর অতীত অবস্থা পাইয়া আত্মা মুক্ত হইয়া যায়।
জয় রাম জয় গোবিন্দ 
ঠাকুর,পৌষ সংক্রান্তিতে আপনাকে আমার স্ত্রী পিঠা দিয়া ভোগ দিব, তাই আমাদের বাড়িতে যেতে আমার স্ত্রী বিশেষভাবে অনুরোধ করিলেন।
 
জয়গুরু জয়রাম 
শ্রীশ্রী ঠাকুরকে কেউ ফাঁকি দিতে পারে না, বিভিন্ন ঘটনায় বহু আশ্রিত তার অসংখ্য প্রমাণ পেয়েছেন।
সেবার মহেন্দ্র দাস ঠাকুরকে পৌষ সংক্রান্তিতে নোয়াখালী যাওয়ার নিমন্ত্রণ করেছিলেন। ফেনীতে প্রথম দার বাড়িতে শ্রী শ্রী ঠাকুর তখন অবস্থান করছেন। মহেন্দ্রদাস ঠাকুরকে অনুরোধ করে বলেন --ঠাকুর, এবার পৌষ সংক্রান্তিতে আপনাকে আমাদের বাড়িতে যেতে,, হবে। পিঠা দিয়া ভোগ দিবে বলে আমার স্ত্রী বিশেষ অনুরোধ করে পাঠিয়েছেন। শ্রী শ্রী ঠাকুর তার বাড়িতে যেতে রাজি হয়েছিলেন। বেশ কিছুদিন পর ফেনী যাওয়ার পথে লাকসাম স্টেশনে মহেন্দ্র দাস ঠাকুরকে প্রণাম করে তার পাশে বসে অনেক কথা বলার পর বললেন --- কই ঠাকুর, আমার বাড়িতে পৌষ সংক্রান্তিতে গেলেন না তো? শ্রী শ্রী ঠাকুর একটু হেসে উত্তরে বললেন, আমি তো ঐদিন আপনার বাড়িতে গেছিলাম। দেখলাম আপনারা দুই ভাই ঘরের দরজায় লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। আপনাগো দুই ভাইয়ের কান্ড কারখানা দেইখা চইলা আইছিলাম। শ্রী শ্রী ঠাকুর তখন মৃদু মৃদু হাসছিলেন। প্রথম দা এবং রোহিণী বাবুরা সেই দিনের ঘটনাটি সম্পর্কে মহেন্দ্র বাবুকে জিজ্ঞাসা করলেন। মহেন্দ্র বাবু অত্যন্ত সংকুচিত ভাবে বললেন ---- সত্যিই আমরা দুই ভাই সংক্রান্তির দিনে ঝগড়া করে সন্ধ্যাবেলায় লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে বকাবকি করছিলাম। শ্রী শ্রী ঠাকুর আশ্রতিদের পরমগতি, তাই তিনি সর্বদা আশ্রিতদের প্রতি লক্ষ্য রাখেন।
জয় রাম
জয় রাম জয় গোবিন্দ 
.................
 ৭) যথা সাধ্য ভগবৎ চিন্তা করিতে হয়। সকল ভার গুরুতে ন্যস্ত করিয়া উপস্থিত সংসারের প্রারব্ধ কর্ম্ম যাহা যাহা আছে সাধ্য অনুসারে করিয়া যাইতে হয়। কোন বিষয়ে অধিক হর্ষ বিষাদ করিতে নাই।
..................................................
তাঁকে ডাকবার আগে অনুরাগ, ভক্তি বিশ্বাস আসে না। নাম করার সঙ্গে নামী অর্থাৎ ইষ্টমূর্ত্তির ধ্যান হৃদয়ে করিতে করিতে পট, প্রতিমায় যেমন আছে, সেই আকারেই তিনি জীবন্ত ও জ্যোতির্ন্ময়রূপে আকারিত হইবেন। চলার পথে বসুদেবকে যে ভাবে পথ দেখাইয়া উত্তাল তরঙ্গায়িত যমুনা অতিক্রম করাইয়াছিলেন, সে ভাবে তিনিই পথ দেখাইয়া নিবেন।
জয়রাম 🌺🌿
"শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কথামৃত বিন্দু" - শ্রীব্রজেন্দ্র কুমার চৌধুরী
.................................................................
ভক্তি" হলো একটি বৃক্ষের ন্যায়।🌿💖
🌿💖সাধারণ বৃক্ষে যেমন নিয়মিত জল - সার দিতে হয়, ছোট অবস্থায় বেঁড়া দিতে হয়; তেমনি এই ভক্তি রুপ বৃক্ষেও হরিনাম - সাধু সঙ্গ - প্রসাদ গ্রহণ - বেদবানী ও গুরু গীতা পাঠ,বৈষ্ণব সেবা ইত্যাদি রুপ জল - সার দিতে হয়;
💖🌿বৃক্ষে যেমন পরগাছা বাসা বাধেঁ তেমনি ভক্তি বৃক্ষেও মান-মর্যাদা-প্রতিষ্ঠা’র মতো পরগাছা বাসা বাধতে চাইবে কিন্তু এসব'কে অংকুরেই বিনাশ করতে হবে। "দীন" হতে হবে - "দীনেরে অধিক দয়া করেন ভগবান"। লোভ-লালসা-হিংসা - কাম-ক্রোধ-পরনিন্দা থেকে দূরে থাকতে হবে। তবেই আপনার ভক্তি বৃক্ষ পূর্নতা পাবে। তাতে নিশ্চিত রুপে আপনার ভক্তি বৃক্ষে "কৃষ্ণ-প্রেম" রুপ ফল ফলবে, আর স্বার্থক হবে এই মনুষ্য জন্ম। ✨💖
জয় রাম জয় গোবিন্দ
..............................🙏
আমি তখনও ছিলাম, এখনও আছি। গুরুর নিকট অজানা কিছু নাই। তিনি সব জানেন বইলাই সর্বজ্ঞ, তিনি যত্রতত্র গমনাগমন করতে পারেন বইলাই সর্বগ। তিনি সর্বদা সাক্ষীরূপে সঙ্গে সঙ্গে থাকেন, কোথাও যান না। প্রয়োজন বোধে যে কোন সময় যে কোন স্থানে স্বরূপ পরিগ্রহ করতে পারেন এবং করেন। আমি প্রাণরূপে তোমার মধ্যেই আছি। তুমি আমারে উপলব্ধি --- উপ অর্থ নিকট, লব্ধি অর্থ লাভ করবার জন্য চেষ্টা কর। ভূত, প্রেত নিয়া থাকলে আমারে লাভ করা যায় না। নাম, গুরু, ভগবান্ এক। শ্বাস-প্রশ্বাসে নাম ধইরা থাকবার জন্য চেষ্টা কর, তবেই ভূত, প্রেতের সংসার ছাইড়া নাম সংসারে পরিকর হইতে পারবা।
- শ্রীশ্রীঠাকুর রামচন্দ্রদেব 🌺🌿
🙏...................................................................................................................................................................
হঠাৎ চাদর ফেলিয়া উঠিয়া ঠাকুর উঠিয়া বসিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি এইখানে বইসা আছ কেন? আমি দরজার খিল খুলিয়া দিয়া উত্তর দিলাম, "তোমাকে পাহারা দিচ্ছি।"
ঠাকুর ---- তুমি চাদর তুইলা দেখছ?
উত্তর ---- চাদর তুলতে হবে কেন? চাদরের ওপর দিয়ে পরিষ্কার দেখা গেছে তুমি এখানে নাই। তখন চাদর সম্পূর্ণরূপে উঠিয়ে দেখেছি।
ঠাকুর ---- তাতে লাভ কি হইল?
উত্তর ---- লাভের জন্য দেখিনি, দেখবার জন্য দেখেছি। তুমি কোথায় গিয়েছিলে? তোমার দেহ সৌরভে সমস্ত ঘর সৌরভময় হয়েছে কেন?
এই সময় আমার পিতা, মাতা, বড়দা, বড়দি ও ঠাকুরভাই আসিলেন।
ঠাকুর---- দেবীপূজায় গেছিলাম। সেইখানের দেবগন্ধ এখনও দেহে লাইগা আছে। সেইজন্য এই সৌরভ পাইতেছ।
প্রশ্ন---- কি করে গেলে, পুনরায় চাদরের নিচে এলে, কিছুই দেখতে পেলাম না ।
ঠাকুর---- এইগুলি কিছু না। প্রয়োজন হইলে দেহ সমেত যত্রতত্র বিচরণ করা যায়। অনিমা সিদ্ধির কাজ চোখে দেখা যায় না। এই সঙ্গে লঘিমা সিদ্ধি কাজ কইরা যায় ।
-জয় রাম 🌺🌿
(ফনীন্দ্র কুমার মালাকার এর সহিত ঠাকুরের কথোপকথন)
"রামভাই স্মরণে"
ঠাকুরকে একবার জিগগেস করেছিলাম, নানা বৈষয়িক কার্যে লিপ্ত থাকার জন্য একাগ্রচিত্তে 'নাম' করিতে পারি না - কি উপায়?
- 'আপনে আপিসে যে কাজ করেন, সংসারের জন্য যে কাজ করত্যাছেন, যাকে বৈষয়িক কাজ বলত্যাছেন, এসব কার কাজ? সেইটাও তাঁরই কাজ। সংসার তিনিই সৃষ্টি করছেন, সংসারের কাজগুলিও তা তাঁরই। সব কাজের মধ্য দিয়ে 'তাঁর' চিন্তা করলেই, 'তাঁর' নিকট হইতে নিকটতর হওয়া যায়।' প্রত্যুত্তরে ঠাকুর বললেন।
~ কৃপাসিন্ধু রামঠাকুর। শ্রী মনোরঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
ঠাকুর যে গৃহস্থের বাড়ীতে আছেন ,
সে বাড়ীতে সত্যনারায়ণ সেবা হবে ।
এই পূজা প্রদোষে দিবার বিধান ।
জয় গুরু জয় রাম ।
সুপ্রভাত শুভেচ্ছা ।—
নিজের জন্য করবার মতো কোন কাজই আসলে
ঠাকুরের ছিল না ।
কেবল আমাদের মত অধম-পতিতকে কৃপা করার দায়
ঘাড়ে নিয়েই তাঁর আগমন ।
কাজেই ঘুমিয়ে বা বিশ্রাম করে সময় কাটাবার মতো অতিরিক্ত সময় ঠাকুরের হাতে ছিল না ।
হাতে কোন জরুরী কাজ না থাকলে ,
ঠাকুর অনেক সময় পঞ্জিকাখানা খুলে বসতেন ,
অথবা কাগজ-কলম নিয়ে এটা-ওটা লিখতে শুরু করতেন । মাঝে মাঝে ভক্তদের চিঠির উত্তরও নিজ হাতে লিখতেন ।
অবশ্য এ সব লেখার অধিকাংশই ছিল জ্যোতিষশাস্ত্র সম্পৰ্কীয় ।
তাছাড়া নানা প্রকার ওষধি , লতা , পাতা বা শেকড়ের নাম
এবং কী রোগে কোন্‌টা ব্যবহার করলে ফল পাওয়া যায় ,
তার একটা তালিকা তৈরী করতেন ।
তারপর , কোন রাশির অধিপতি কে ,—
কোন্ মাসে ঘর তৈরী করা প্রশস্ত ,—
ইত্যাদি ধরনের নানা প্রশ্নের উত্তরও বসে বসে লিখতেন ।
যদি কেউ এসে ঠাকুরকে সংবাদ দিতেন ,—
বাবা! অতটার সময় অমুকের একটি ছেলে হয়েছে ।
ঠাকুর তখনই কাগজ কলম নিয়ে লেগে যেতেন নবজাত
শিশুর ঠিকুজি তৈরী করতে ।
যেন , ছেলে হবার সংবাদে ঠাকুরের আর কিছু করণীয় নেই , তাই বসে বসে ছেলের ঠিকুজিই বানাচ্ছেন ।
সময়ানুবর্তিতা সম্পর্কেও ঠাকুরের অসাধারণ নিষ্ঠা ছিল । অনেক সময় ঠাকুরের ট্যাকে একটি ঘড়ি থাক্‌তো এবং মাঝে মাঝে তিনি সেটা বের করে সময় দেখতেন ।
পূজা , ভোগ , আরতি ইত্যাদি যথাসময়ে না হলে ,
ঠাকুর মনে অত্যন্ত ব্যথা পেতেন ।
এমন কি এজন্য মাঝে মাঝে একটু-আধটু বিরক্তি প্রকাশ করেও ভক্তদের সময়ের মূল্য সম্পর্কে শিক্ষা দিতেন ।
যে গৃহস্থের বাড়ীতে আছেন ,
সে বাড়ীতে সত্যনারায়ণ সেবা হবে ।
এ পূজা প্রদোষে দিবার বিধান ।
পূজারী আস্‌তে বিলম্ব করছেন দেখে ,
ঠাকুর নিজেই পূজায় বসে যেতেন ,
তা না হলে যে গৃহস্থের অকল্যাণ হবে !
কোন প্রকার অছিলায়ই কর্তব্য কর্মে অবহেলা ঠাকুর
কখনও অনুমোদন করতেন না ।
বৈষয়িক কাজকর্ম ফেলে রেখে ঠাকুরের কাছে বসে থাকাও ঠাকুর পছন্দ করতেন না ।
মোট কথা , যখনকার যে কাজ তা সময় মতো সমাধা
করাই সঙ্গত , এবং ঠাকুর নিজেও তা করতেন এবং ভক্তদেরও সেভাবে নির্দেশ দিতেন।
জয় রাম জয় গোবিন্দ ।
শ্রী শিতিকণ্ঠ সেনগুপ্ত ।
নাম-বিগ্রহ শ্রীশ্রী রামঠাকুর ।
পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৭ হইতে 

বৈদিক যুগের যাগ, যজ্ঞ, তপস্যা প্রভৃতি কচ্ছ্রসাধ্য অনুষ্ঠান এই যুগের অল্প আয়ু, অল্প শক্তি মানবের করা সম্ভব নয়। ঠাকুর নিজে পরম যোগী হইয়া তাহা ভালো করিয়াই বুঝিয়াছিলেন। তাই তিনি প্রচার করিলেন, এ যুগে একমাত্র ধর্ম্মানুষ্ঠান হইল "নামকীর্ত্তন", জাতিবর্ন-নির্ব্বিশেষে সকলকে আপন জন করিয়া অখণ্ড আনন্দানুভূতি।
জয়রাম 🌺🌿
" শ্রীশ্রীঠাকুরের বংশ পরিচয় "-মহেন্দ্র চন্দ্র চক্রবর্ত্তী।
অতঃপর শ্রীরামের কঠোর তপশ্চর্য্যা আরম্ভ হইল। পর্ব্বতের সানুদেশে এক গুহায় শ্রীরামকে তদীয় গুরুদেব তপস্যায় বসাইলেন। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস চলিল যোগ ও তন্ত্র, নানা ক্রিয়া কাঠোর তপস্যা। এই গুহায় অবশেষে শ্রীগুরুর আদেশে এক যজ্ঞানুষ্ঠান হইল। এই যজ্ঞে আহুতি দিয়া শ্রীরাম হইলেন "সর্বসিদ্ধ"। গুরুদেব তখন আদেশ করিলেন "বৎস, এখন জীব হিতৈষণার জন্য লোকালয়ে গমন কর। সাধন ও সিদ্ধির যে বীজ ভগবৎ কৃপায় তোমার সত্তায় নিহিত হইল তাহা পল্লবিত, পুষ্পিত ও ফলিত হউক।"
শ্রীশ্রীঠাকুর সজলচক্ষে শ্রীগুরু-পাদপদ্ম বন্দনা করিলেন, তাহাকে প্রদক্ষিণ করিয়া বিদায় লইলেন।
জয়রাম
গুরু কৃপাহি কেবলম্
'শ্রীশ্রী রাম পূজা' - শ্রীরামের শ্রীচরণাশ্রিত ডাক্তার শ্রীযতীন্দ্র চন্দ্র দেব


আমি (ফনীন্দ্র কুমার মালাকার )- ঠাকুরকে বলিলাম --- "ঠাকুর, শুনেছি আত্মা নিত্য শুদ্ধ, নিত্য মুক্ত। তবে কেন আপনার এত বিকৃত অবস্থা ঘটে?
ঠাকুর --- আত্মার বিকৃত অবস্থা কখনো হয় না। আত্মা সর্বকাল এক অপরিবর্তনশীল অধিকৃত অবস্থায় বিরাজ করে। আত্মার বিকৃত অবস্থা বইলা যা মনে হয় তা আত্মার নয়। আকাশে সূর্যের একখান ঘন কৃষ্ণ মেঘে আচ্ছাদিত করলে সূর্যের স্বীয় চিরন্তন অবস্থায় যে রকম কোনো পরিবর্তন হয় না, সেই রকম আত্মা, প্রকৃতিজাত মন, বুদ্ধি, অহংকার, দশ ইন্দ্রিয় দ্বারা আচ্ছাদিত হইলেও আত্মা স্বীয় অপরিবর্তনীয় অবস্থায় বিরাজ করে। আবৃত অনাবৃত সকল অবস্থায় আত্মা অবিকৃত। বিকৃত অবস্থা হয় মনের। আবরণ শূন্য নাম দ্বারা এই মনরে মুক্ত করতে হইব। তখন জন্ম মৃত্যুর অতীত অবস্থা পাইয়া আত্মা মুক্ত হইয়া যায়।
🙏 জয় রাম জয় গোবিন্দ
তোমরা যেমন সৎ সৎলোকের সঙ্গে, মন্দ মন্দলোকের সঙ্গে মিশে থাকতে ভালোবাসো। তাগো বেলায় ও সেই রকম।
জয়গুরু জয়রাম 
আমি ( ফনীন্দ্র কুমার মালাকার )নোট বই ও কলম হাতে লইয়া বলিলাম," ঠাকুর, আজ জঞ্জাল পূর্ণ পাইন বাগানের কাহিনী শুনতে এসেছি।
আমি---- শিলংএ পাইন বৃক্ষের বহু বাগান আছে?
ঠাকুর---- আছে বই কি?
আমি----- তার মধ্যে ১০ টি বাগানে আমাদের নিয়ে গিয়ে নাম কীর্তন করিয়েছিলে। নির্জন নিরালা পাইন বাগানে কীর্তনের কি প্রয়োজন ছিল?
ঠাকুর----- নিশ্চয়ই প্রয়োজন ছিল। তারকব্রহ্ম ১৬ নাম ৩২ অক্ষর হরে কৃষ্ণ রাম হইল প্রণবের তিনটি অবয় অ উ ম। অর্থ হইলো তন্ময় তার সঙ্গে হরিনামে রমন করা। প্রণব কীর্তনের ফল সর্বত্র, সর্বকালে সমভাবে হইয়া থাকে। তারতম্য কিছু নাই। যেমন, অমৃত পানে স্বাদ তিক্ত, কষা, কটু, মিষ্ট
যেমনি লাগুক, অমৃত অমৃতের ফল দিবেই। সেরূপ এই নাম করতে ভালো-মন্দ রুচি,অরুচি যেমন লাগুক না কেন, নাম নামের ফল অবশ্য দিবে। এই কীর্তন শ্রবণে বৃক্ষ তরুলতা পতঙ্গাদি সকল জীবের উন্নত অবস্থা প্রাপ্তি হয়।
আমি---- ঐ ১০ টি বাগানকে লক্ষ্য করেই জঞ্জালপূর্ণ বলেছিলে?
ঠাকুর --- হ তাই।
আমি----কেন? শিলংয়ে আরো বহু পাইন বাগান রয়েছে।
ঠাকুর ----- থাকলে কি হইব? শুধু ওই বাগান গুলিতেই হাজার হাজার বিদ্রোহী আত্মা আশ্রয় নিয়েছিল। তাগো মধ্যেও ভালো মন্দ রকমের ফের আছে। তোমরা যেমন সৎ সৎলোকের সঙ্গে, মন্দ মন্দলোকের সঙ্গে মিশা থাকতে ভালোবাসো, তাগো বেলাও সেইরকম। তারা তাগ অবস্থান্তর প্রাপ্তির জন্য সর্বদা আইসা কাকুতি-- মিনতি জানাই তো।
আমি---- আমাদের কীর্তনের ফলেই বিদ্রোহী আত্মাগুলির অবস্থানর প্রাপ্তি ঘটে?
ঠাকুর--- নিশ্চয়ই। নামের অসীম ও অমোঘ শক্তি। অসম্ভব সম্ভব করতে পারে একমাত্র নামে।
আমি----- মানব দেহত্যাগের পর সকলেই কি বিদোহী অবস্থায় থাকতে হয়? নাকি কেউ কেউ সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় মানব জন্ম পায়?
ঠাকুর----- পূর্বজন্মের কৃতকর্মের ফল অনুযায়ী বিধান করেন ভবিতব্য।
আমি----- ভবিতব্য কি ভগবান?
ঠাকুর ---না, ভবিতব্য ভগবান নন। জীবের জন্মান্তরীন কর্মফল অনুযায়ী জন্ম কর্ম ও মৃত্যুর বিধায়ক ভবিতব্য। ভবিতব্যের আশ্রয়ে থাকতে ভগবত প্রাপ্তি ঘটে না। মায়াচক্রের অধীন থাইক্কা ভবিতব্যের হাত এড়ান যায় না। গতাগতি ঘুচলে ভবিতব্য থাকে না, ভগবত সন্নিধানে যাওয়া যায়।
🙏জয় রাম জয় গোবিন্দ 🙏
  রাম ভাই স্মরনে 

তবেই দুর্দিন যাইয়া সুদিন উদয় হইবো"।
  জয়গুরু জয়রাম 
ঝুলন উৎসব সম্পূর্ণ হওয়ার পর ঠাকুর বহু ভক্তের সামনে বলিতে শুরু করিলেন, কৃতিত্ব করতে যাইয়া কেবল কর্মফল বৃদ্ধি করে। এই ঋণ শোধ হয় না বইলাই জন্ম মৃত্যু উপভোগ করে।
ভব সাগর তারন হয় না। ভব কি? ভব হইলো "আমি ও আমার " মধ্যে আকৃষ্ট হইয়া জীব অহং জ্ঞানে চিরকাল ঘুইরা বেড়ায়, মরুভূমের আকর্ষণ শেষ হয় না, গতাগতি ও ঘুচে না। মানুষ "আমি "তে বদ্ধ জীব। এইটাই মহামায়ার বন্ধন।
সেজন্য মানুষ এই পঞ্চভূতির রাজ্যে আইসা তার অচেতন,জড় অস্থায়ী অনিত্য দেহটারে নিয়া কামনায় বাসনায় " আমি" আমার বইল্লা দগ্ধ হইতেছে। আমি হইল মন, আমার হইল বুদ্ধি অর্থাৎ বোধ। এই মন ও বুদ্ধির ব্যাগ ধৈর্য ধইরা থাকতে থাকতে মানুষ যখন " আমি" আমার এই দক্ষ-যজ্ঞ, নাম যজ্ঞের প্রভাবে ভুলতে পারবে তখনই হইল সত্যনারায়ণ প্রতিষ্ঠা।
অতএব সত্যনারায়ণের নামের স্মরণ লইতে অভ্যাস করবেন। চিরকাল কৃতিত্ব কইরা কি লাভ করছেন? আপনার ভাগ্যের অতিরিক্ত কিছুই পান নাই। কর্তা হইতে যাইয়া অপার অভাব চিন্তায় সর্বদা কষ্ট ভোগ করতেছেন। জানবেন,আপনি কর্তা নন। যদি কর্তা হইতেন তবে আপনেরে বাসনা অনুযায়ী সকল কার্য কেন সফল করতে পারেন না? তাই শাস্ত্র বলছে----ন কৃত্বিত্বং ন কর্মনি লোকস্য সৃজতি প্রভু নিভৃতে,
নির্জনে আপনি কে? আপনার কর্তব্য কি? আপনার তাপের কারণ কি? তবেই দুর্দিন যাইয়া সুদিন উদয় হইবো।
🌺জয় রাম জয় গোবিন্দ 🌺
  রাম ভাই স্মরনে 
 
হিমালয় পর্বত নিয়ে ঠাকুরের সঙ্গে
ফনীন্দ্র কুমার মালাকারের কথোপকথন 💞
🙏 জয়গুরু জয়রাম 🙏
ফনীন্দ্র কুমার মালাকার--- তীর্থ পর্যটনে, হিমালয় ভ্রমণে , অবস্থানে কত বছর কেটেছে।
ঠাকুর --------তিন বৎসর হইবো।
ফনীন্দ্র কুমার মালাকার ---- সবার শেষে কোথায় গেলে?
ঠাকুর --- একদিন গুরুজী আইসা মহাপুরুষগরে প্রণাম কইরা ঐ আশ্রম ছাইড়া আসতে আদেশ দিলেন। আমরা তাগরে প্রণাম করলে তারা প্রত্যেকে দক্ষিণ হস্ত উত্তোলন কইরা অভয় মুদ্রা প্রদর্শন কইরালেন। গুরুজি আমাগোরে লইয়া অন্য অতি সুগম ও সহজপথে বরফের রাজ্য দিয়া নাইম্যা পর্বতের পাদদেশের কিছু উপরে সন্ধ্যার আগে একটা গুহা দেখাইয়া দিয়া বসার ইঙ্গিত দিয়া চইলা গেলেন। যাওয়ার সময় বইলা যান,তিনি আইসা ডাইকা নিবেন। সন্ধ্যা হয়েছে দেখিয়া আমি গুহায় বসিয়া পড়িলাম।
ফনীন্দ্র কুমার মালাকার ---- কতকাল ঐ গুহায় বসে ছিলে?
ঠাকুর ----- কতকাল কই? মাত্র এক রাত। সন্ধ্যায় বসেছি, প্রভাতে গুরুজী আইসা ডাকলেন, রাম, রাম প্রভাত হইছে। উইঠা আস। গুরুজীর কণ্ঠস্বর মর্মস্পর্শ করলে চক্ষু খুইল্যা গুরুজীরে দেইখা কইলাম, পিতা এত তাড়াতাড়ি রাত প্রভাত হইয়া গেল? গুরুজি হাইসা বললেন, হ, হ, স্থির মালা ধ্যানে যোগরাত এত শীঘ্র প্রভাত হইয়া যায়। এখন উইঠ্যা আস। আমি উইঠা দেখি চুল, গোঁফ, দাড়ি জটার আকারে ঝুলতেছে। নখ গুলি খুব বড় হইছে। গুহা থাইকা বাহির হইয়া আইসা গুরুজীরে শ্বাসটাঙ্গে প্রণিপাত করলাম । গুরুজি একা। তিনি আমারে নিয়া হিমালয়ের পাদদেশে এক গ্রামে গিয়া আমার খোর কর্ম সম্পাদন করাইলেন।
তারপর পথ চলতে চলতে বললেন, তোমার শরীরের তুষার শুভ্র বর্ণ নিয়ে লোকালয়ে গিয়ে কাজ করতে পারবো না। লোক তোমারে দেইখ্যা ভয়ে গ্রহণ করব না। শরীরের আগের রং পাইতে হইব।
ফনিন্দ্র কুমার মালাকার ---- তোমার দেহের রং পরিবর্তিত হলো কেন?
ঠাকুর ----তুষার রাজ্যের আবহাওয়ার প্রভাবে শরীরের রং তুষারের রঙের মতো হইয়া গেছিল।
ফনীন্দ্র কুমার মালাকার ---- দেহের রং ফিরে পেলে কি করে?
ঠাকুর---- গুরুজি সহ হাইট্টা মধ্যঙ্গে এক নিবৃত্ত স্থানে গিয়া গুরুজী একটা কুণ্ড দেখাইয়া বললেন, এই কুন্ডের মধ্যে চুপ কইরা পইরা এক ডুব দিয়া উঠে আস। মুহূর্ত দেরি হইলে পাথর হইয়া যাইবা। আমি আমনি ঝোপ কইরা পইরা ডুব দেওয়া মাত্র গুরুজি আমার হাত ধইরা টেনে উঠাইলেন। কি ভয়ঙ্কর হিম। ঠক ঠক কইরা কম্পন শুরু হইলো। গুরুজি নিজ হস্ত দ্বারা আমার দেহের জল মুছাইয়া দিয়া দেহে স্ত্রী হস্ত বুলাইয়া দিয়া আমারে লোকালয়ে যাইতে আদেশ দিয়া চইল্যা যান।
🙏 জয় রাম জয় গোবিন্দ 🙏
❤️ রাম ভাই স্মরনে 

গুরু ব্রহ্মা, গুরু বিষ্ণু, গুরুদেব মহেশ্বর,
গুরু রেব পরম ব্রহ্ম তৈষ্ম শ্রী গুরবে নমঃ।
জয় রাম 🙏জয় রাম🙏 জয় রাম
🌺জয়গুরু জয়রাম 🌺🙏
🙏......................................................................................................................................................................
ঠাকুর বলিতেন, কীর্তন করবার ইচ্ছা সাধু,
অসাধু, ভাবুক অ ভাবুক ভালো, মন্দ,পাগল উদাসী সকলেরই হয়। সকলে সমবেতভাবে
যার যার ভাবে বিভুর হইয়া কীর্তন করবে। ভাবানন্দে কেহ গাইবে, কেহ নাচবে,
কেহ ভূমিতে গড়াগড়ি দিবে, কেহ মহাদেবের ন্যায় উদ্যোক্ত নৃত্য করবে।
চৈতন্যদেব ও এ রূপ কীর্তন আনন্দের -দেব,
দানব,মানব, পশু, পক্ষী কীট -পতঙ্গ, তরুলতা সকলের মোহিত করেছিলেন।
এটাই কীর্তনের রীতি, এভাবেই কীর্তন করতে হয়।
🙏 জয় রাম জয় গোবিন্দ
🙏..............................................................................................................................................
  রাম ভাই স্মরণে 
এই দেহটারে না দেখলে আপনারা মনে করেন আমি নাই।" গুরু বাক্যে অন্ধবিশ্বাস থাকা চাই।
🙏জয়গুরু জয়রাম 🙏
দোল উৎসব উপলক্ষে আমাদের গ্রামের কীর্তনের দল ব্যতীত বাহিরের হতে আরো ৪ দল কীর্তনীয়ার ব্যবস্থা করিয়া রাখা হয়েছিল। সন্ধ্যা ৬ টায় ভুবনদা ঠাকুর প্রণাম করিয়া গঙ্গা আহ্বানের জন্য কীর্তন সহযোগে যাত্রা করিলেন। কীর্তন চলিতে লাগিল। এদিকে হরিদার অবস্থা সংকটজনক। ডাক্তার বলিয়াছে, যে কোন মুহূর্তে হার্টফেল করিতে পারে। হরিদা আচ্ছন্নভাবে পড়িয়া আছেন। তিনি আপনার দর্শন প্রার্থনা করিয়াছেন।
ঠাকুর বলিলেন,একখান গাড়ি নিয়ে আসেন, হরি বাবুকে দেইখা আসি।
কীর্তনের সকলেই উপস্থিত ছিলেন। আমিও( ফনিন্দ্র কুমার মালাকার ) এতক্ষণে কীর্তনই ছিলাম। সে সময় আমাদের দল কীর্তন করিতেছিলেন। আমি উপরে গেলে ঠাকুর আমাকে বলিলেন, ছাইরা আইলেন কেন? আমি উত্তর এরাইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, হরিদাকে দেখে এখনই আবার চলে আসবেন না?
ঠাকুর------ কি কইরা বলুম? সেদিনও আপনাকে বলছি উৎসব শেষ করতে ভাগ্যে দিলে তবে তো। আজও দেখেন কি হয়।
পিতা ঠাকুর ------ আমরা মনে করেছিলাম আপনারা নিয়া উৎসবের আনন্দ করুন।এখন আপনি চইল্যা গেলে কি রকম হইবে?
ঠাকুর------- আমি সর্বক্ষণ আছি এবং থাকুম। এই দেহটারে না দেখলে আপনারা মনে করেন আমি নাই। এই দেহটারে বাদ দিয়েও যে আমি আছি সেটুকু কেন বিশ্বাস করেন না? গুরু বাক্যে অন্ধবিশ্বাস থাকা চাই।
এমন সময়ের নিচে মোটর গাড়ির আওয়াজ শোনা গেল। রাত্রি ১ টা। ঠাকুর উঠিয়া "জয় গোবিন্দ জয় গোবিন্দ " বলিয়া যাত্রা করিলেন।
🙏🙏 জয়রাম জয় গোবিন্দ 🙏🙏
  রাম ভাই স্মরনে
নাম প্রানে গাথা থাকে বইল্যা নাম লয়,
সেই হেতু নাম প্রাণের প্রাণ মহাপ্রাণ।
🌼 জয়গুরু জয়রাম 

"ঠাকুর,হাসিতে ছিলেন। আমি ( ফনীন্দ্র কুমার মালাকার) পদযুগলের হাত বুলাইয়া দিতে আরম্ভ করিলাম। ঠাকুর জিজ্ঞাসা করিলেন, কেমন আছেন? আমি বলিলাম, আপনার দয়ায় ভালো আছি। কিন্তু মনের সঙ্গে আটিয়া উঠিতে পারিতেছিনা। কি করিলে মন স্থির হইবে?
" ঠাকুর, বলিলেন, চেষ্টা দ্বারা মন স্থির করা যায় না। তাতে বিপরীত ফল ফলে। মন যেদিকে যাওয়ার যাউক, সেদিকে লক্ষ্য না কইরা নাম শুইন্যা যাইতে হয়। নাম শুনতে মনের প্রয়োজন হয় না। মন থাকলে নাম শোনা যায় না।
জীবের সাধ্য নাই নাম করে। নাম করে শিবে,
নাম শুনে জীবে। নাম প্রাণে গাথা থাকে বইল্যা নাম লয়। সেই হেতু নাম প্রাণের প্রাণ মহাপ্রাণ।
এই নাম শুনবার জন্য ক্রমে ক্রমে ধীরের আশ্রয় যাইতে অভ্যাস করতে হয়। তবে নাম শুনা যায়।
নাম শুনতে শুনতে মন থাকে না, মন মইরা যায়।
সে কারণে মন স্থির করার জন্য কোন প্রকার চেষ্টার প্রয়োজন নাই। এই বলিয়া ঠাকুর নীরব হইলেন।
আমি ঠাকুর কে প্রণাম করিয়া বাইরে আসিয়া দেখি শ্যাম দা দাঁড়িয়ে আছেন । তিনি বললেন "বেশ বেশ,এই তো চাই। আজ তোকে ঠাকুরের সঙ্গে বসতে দেখে খুব আনন্দ পেয়েছি। ঠাকুর যখন যা করতে বলবেন কোন প্রকার ভয়, ভীতি, দ্বিধা সংকোচ না করে তখনই তা করবি।
সক্ষভাবে দ্বিধা সংকোচ নাই------- বুঝলি ?
আমি মাথা নাড়িয়া সম্মতি জানাইয়া শ্যামদাকে প্রণাম করিয়া বাড়ি ফিরলাম।
🙏 জয় রাম জয় গোবিন্দ 🙏
🙏 রাম ভাই স্মরণে
 ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
 
উপদেশদান কালে ঠাকুর বলিয়াছিলেন,
ঠাকুর প্রসঙ্গ, ঠাকুরের কথা যে স্থানে হয় সে স্থানে ঠাকুর স্বয়ং উপস্থিত থাকেন l " গুরু বাক্যই গুরু " ঠাকুরের এই মহান বানী আমাদের সুদৃড় ভাবে স্মরণ রাখা একান্ত কর্তব্য।
বেদবানী পাঠ অথবা ঠাকুর প্রসঙ্গ আরম্ভ হইলে ধৈর্য সহকারে মনোযোগ দিয়ে নীরবে শ্রবণে ঠাকুরের প্রতি আমাদের ভক্তি, শ্রদ্ধা ভালোবাসা জ্ঞাপন করাই কর্তব্য। শ্রবণ করিতে ভালো না লাগলে সে স্থান ত্যাগ করা উচিত। সে সময় বাজে কথায় ও আলাপে ঠাকুরের প্রতি অশ্রদ্ধা অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়। তাহা ঘোরতর অপরাধ।
কৃষ্ণ রুষ্ট হলে গুরু রক্ষ্মীবারে পারে ----
গুরু রুষ্ঠ হলে কেহ রক্ষীবারে নারে ----
ভুলিবেন না।
🙏 জয় রাম জয় গোবিন্দ 🙏
🙏 রামভাই স্মরনে 
....................................................................................................................................................................
জয় রাম জয় গুরু 🙏
-----ঠাকুরের কাছে আসার সহজ পথ ঠাকুর নিজেই বলেছেন,____
"সরলতার আশ্রয়ে থাকা নিরাপদ। শিশুর সরলতাই একমাত্র আশ্রয়। সেইখানে মন, বুদ্ধির ক্রিয়া নাই। সেইজন্য শিশুদের মধ্যে ভগবান বিরাজ করেন। শিশুর মত সরল হইতে পারলে ভগবানরে পাওয়া যায় । আমি বাঞ্ছা করি তুমি শিশুর মত সরল হও। সরলতা আমি ভালবাসি। শুধু সরলতা দিয়াই আমারে পাওযা যায়। সাধ্য সাধনে মিলে না।"
-জয় রাম
 
 ..................................................................................................................................................................
ভাগ্য বশেই এই জগৎ চালিত হইতেছে। ভাগ্যকে ছাড়া কোথাও থাকা,যাওয়া চলে না। ধৈর্য্য সম্পদ সর্বত্র বিজয়ী বলিয়া মহাজনেরা বলিয়া থাকে ‌সাহস,বল, সামর্থ্য ধৈর্য্য হইতেই লাভ করিয়া থাকে। ভয়,শোক,সন্তাপ হইতেই আতঙ্কের সৃষ্টি হইয়া থাকে। সত্যের সেবা বশে এই সকল কলুষ বিনষ্ট হইতে পারে।
জয় রাম জয় গোবিন্দ 🙏
বেদবানী ১খন্ড(৩৫০
আমি তখনও ছিলাম, এখনও আছি। গুরুর নিকট অজানা কিছু নাই। তিনি জানেন বইলাই সর্বজ্ঞ, তিনি যত্রতত্র গমনাগমন করতে পারেন বইলাই সর্বগ। তিনি সর্বদা সাক্ষীরূপে সঙ্গে সঙ্গে থাকেন, কোথাও যান না। প্রয়োজনবোধে যে কোনো সময় যে কোন স্থানে স্বরূপ পরিগ্রহ করতে পারেন এবং করেন। আমি প্রাণরূপে তোমার মধ্যেই আছি। তুমি আমারে উপলব্ধি - উপ অর্থ নিকটে, লব্ধি অর্থ লাভ করার জন্য চেষ্টা কর। ভূত প্রেত নিয়া থাকলে আমারে লাভ করা যায় না। নাম, গুরু, ভগবান এক। শ্বাস প্রশ্বাসে নাম ধৈরা থাকবার চেষ্টা কর, তবেই ভূত, প্রেতের সংসার ছাইড়া নাম সংসারের পরিকর হইতে পারবা।
শ্রীশ্রী রামঠাকুর।
জয় রাম জয় গুরু জয় গোপাল জয় সত্যনারায়ণ জয় গোবিন্দ গুরু কৃপাহী কেবলম্
.............................................................................................................................................................................
তোমরা এই সামান্য বিপদে অধীর হইয়া ভগবত স্মরণ ভুইলা আছ কেন ?" জয় রাম 🙏🙏
কার্তিক মাসের ৬ তারিখ সন্ধ্যায় অদূরে মায়ের বোধন পূজার আরতির বাদ্য আমরা শুনিলাম। তা সত্ত্বেও পরিবারস্থ কাহারো হৃদয়ে জাগ্রত হইল না স্বয়ং দুর্গা দেবী রাম ঠাকুর রূপে ঘরে বসিয়া রহিয়াছেন। ৭ই কার্তিক ঠাকুর জিজ্ঞাসা করিলেন, স্নান করছ? আমি ( ফনিন্দ্র কুমার মালাকার ) চমকৃত হইয়া ঠাকুরের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া বলিলাম, না এখন ও স্নান করি নাই।
ঠাকুর কিছু বলিলেন না। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, আজ হঠাৎ স্থানের কথা কেন বলছ ভেবে পাচ্ছিনা।
ঠাকুর বলিলেন, শুন।
মানবজাগতিক সুখে মগ্ন থাইক্যা ভগবত স্মরণ বিস্মিত হইয়া কত্তা সাজিয়া কর্মপাসে বন্দি হয়, বহির্গমন এর শক্তি নাই। সেজন্য মানবের দুঃখ, কষ্ট, অভাব, অশান্তি আদি ভগবানের আশীর্বাদস্বরূপ। মানব সংসারের নানা প্রকার জঞ্জাটে, দন্যে আপদে বিপদে গতিহীন হইয়া অগতির গতি সর্বত্রাতা গোবিন্দের শরণাপন্ন হয় । গোবিন্দ স্মরণীয় জনের পাশ ছাড়েন না।
পড়ন্ত সর্ববন্ধন মুক্ত কইরা ভবো সাগর পার করান। পাণ্ডবরা কুরুকুলের তরঙ্গে কইরা রাজ্যহারা গৃহ হারা হইয়া বনে জঙ্গলে ভ্রমন কইরা অসীম দুঃখ কষ্ট বরণ কইরাও গোবিন্দ স্মরণে বিরত ছিলেন না। গোবিন্দ ত্যাগ পাশ ছাড়েন নাই। সময়ে অসময়ে ত্যাগ নিকট উপস্থিত হতেন। অবশেষে সর্ববন্ধন মুক্ত কইরা নিয়া গেলেন। তোমরা এই সামান্য বিপদে অধীর হইয়া ভগবত স্মরন ভুইলা আছো কেন?
বলিলাম, স্বয়ং ভগবান আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। ভুলতে চাইলেও ভুলা যায় না! ঠাকুর বলিলেন, আজ মায়ের সপ্তমী পূজা দিবা না?
অমনি চরণ জুগলে মাথা ঠেকাইয়া বলিলাম,
" তুমিই মাতা, তুমিই পিতা, তুমিই পরম ইস্ট। তোমাকে পুজো দেবো না তো কাকে দেবো ঠাকুর? আমার কাপড় দিয়া শ্রীচরণে পড়া চোখের জল মুছিয়া দিয়া নামিয়া আসিলাম।
🙏 জয় রাম জয় গোবিন্দ 🙏
ঠাকুর যে সময় চাঁদপুর হইতে বাড়ীতে আসিয়াছিলেন তখন এতদঞ্চলের অসংখ্য হিন্দু-মুসলমান তাঁহার দর্শন কামনায় আসিতেন। সাধু চেরাগ আলীও, দর্শনেচ্ছু হইয়া পুকুর পাড়ে বসিয়া আছেন, ঠাকুরের নিকট যাইতে তাঁহার সাহস হইতেছিল না, সর্বজ্ঞ ঠাকুর চেরাগ আলির অন্তরের ভাব জানিতে পারিলেন, তিনি লোক পাঠাইয়া তাঁহাকে আনাইলে। নিজ বিছানার পাশে বসাইয়া বলিলেন, "আপনি আমার পূর্ব্বজন্মে তাঐ ছিলেন।".
জয়রাম 
"শ্রীশ্রীঠাকুরের বংশ পরিচয়"-মহেন্দ্র চন্দ্র চক্রবর্ত্তী।
 
 বেদ বাণী প্রথম খন্ড (৪৫) 
ব্রজবধূর কৃষ্ণ ভক্তি প্রেমের তরঙ্গে চঞ্চলই আকর্ষণ করিয়া থাকে এবং বিষ অমৃত একত্র হইয়া ভগবৎ সেবায় পূর্ণ শক্তিমান হয় বলিয়া শান্তির অভাব থাকিয়াই যায়।শান্তি হয় না। ইহাই ভগবানের প্রেমের লক্ষণ জানিবে ।যেখানে শান্তির তরঙ্গ উদয় আছে সেখানে সমতা ভাব হয় মাত্র কিন্তু প্রমের অভাব থাকিয়া যায়। অতএব ভগবৎ ভক্ত শান্তিময় অজস্র ঐশর্যকে তুচ্ছ করিয়া থাকে।মায়া মুগ্ধ বুদ্ধি কেবল শান্তির তৃপ্তি খোঁজে। ব্রজের পথে ঐহিক প্রারব্ধের কন্টক চৌদি কেতে বিকশিত হয়। কালের রৃণ শোধনের জন্যই পতিব্রতা আচরণে যত্ন শীল হইয়া সতীধর্ম কথায় ক্লেশে ভোগান্ত করিয়া নিত্য মুক্ত ভক্তির উর্বান করিয়া পথ রাখিয়া গিয়াছেন।। জয় রাম
 ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
কোন কোন সমাজে উপনয়নের পূর্ব্বাহ্নে বালককে পঞ্চগব্য খাওয়ানোর ব্যবস্থা ছিল। ঠাকুরও তৎকালে পঞ্চগব্য ভক্ষণ করিয়া ছিলেন। এবং তদবধি তিনি চিরকালের জন্য অন্নত্যাগ করিয়াছিলেন। তাহার ব্যতিক্রম হইলে তাহা কেবল মাত্র ভক্তের আগ্রহে হইতে পারে, ইহাই ভক্তাধীনের স্বভাব। তিনি ছিলেন ইচ্ছাময় অর্থাৎ ইচ্ছাধীন।
জয়রাম 
"শ্রীশ্রীরাম ঠাকুরের জীবন ও লীলা প্রসঙ্গ" - অধ্যাপক ঁদীনেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য্য ।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
" মুখবন্ধ "
উপদেশদান কালে ঠাকুর বলিয়াছিলেন,
ঠাকুর প্রসঙ্গ, ঠাকুরের কথা যেস্থানে হয় সেস্থানে ঠাকুর স্বয়ং উপস্থিত থাকেন।
"গুরুর বাক্যই গুরু "ঠাকুরের এই মহান বাণী আমাদের সুদৃঢ়ভাবে স্মরণ রাখা একান্ত কর্তব্য।
বেদবাণী পাঠ অথবা ঠাকুর প্রসঙ্গ আরম্ভ হইলে ধৈর্য সহকারে মনোযোগ দিয়া নীরব শ্রবণে ঠাকুরের প্রতি আমাদের ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালবাসা জ্ঞাপন করাই কর্তব্য।
শ্রবণ করিতে ভাল না লাগিলে সে স্থান ত্যাগ করা উচিত। সে সময় বাজে কথায় ও আলাপে ঠাকুরের প্রতি অশ্রদ্ধা অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়। তাহা ঘোরতর অপরাধ।
কৃষ্ণ রুস্ট হলে গুরু রক্ষিবারে পারে -গুরু রুস্ট হলে কেহ রক্ষিবারে নারে-ভুলিবেন না। -রামভাই স্মরণে "
সেই সময় হরিদ্বারে পুর্ণকুম্ভ মেলা হয়েছিল ৷ আমাদের এক আত্মীয় তাঁর গুরুর সঙ্গে পুর্ণকুম্ভ মেলায় যাচ্ছেন৷ তাঁহারা কুম্ভমেলার নানা গল্প করলেন৷ বাবা ও শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁদের সব গল্প নীরবে শুনলেন৷ আমার মা ঠাকুরকে বললেন ‘ঠাকুর চিরদিন ত রান্না নিয়েই থাকলাম৷ কুম্ভ মেলায়ও গেলাম না, মনে বড় দুঃখ রয়ে গেলো৷’
শ্রীশ্রীঠাকুর মাকে বললেন ‘মা মনে দুঃখ রাখতে নাই ৷ কুম্ভ গৃহী সংসারী লোকের জন্য নয় ৷ কুম্ভমেলা সাধু মহাত্মাদের জন্য ৷ তবে লোক সকল কুম্ভে যায়, সাধু দর্শন হয় এই যা, সকলেরই কুম্ভস্নান হয় না ৷’
তারপর ঠাকুর মাকে বললেন ‘মা, আপনার মনে কুম্ভস্নানের দুঃখ আছে ৷ আপনি এক ঘটি জল আনেন ৷’ মা এক ঘটি জল ও গামলা আনলেন ৷ ঘটির মধ্যে একসেরের মত জল ছিল ৷ আর গামলায় কোন জল ছিল না, তাতে অবশ্য ৮/৫ সেরের মত জল ধরে ৷ ঠাকুর খাটের উপর বসে গামলায় শ্রীপাদপদ্ম রাখলেন ৷ মা তার বীজমন্ত্র জপ করতে করতে ঠাকুরের শ্রীচরণে ঘটির জল ঢালতে লাগলেন ৷ সেই ঘটির জল ঠাকুরের শ্রীচরণ ধুয়ে কুলু কুলু শব্দ করে গামলা ভর্ত্তি হয়ে মাটিতে গড়িয়ে পড়তে লাগলো ৷ আশ্চর্য্যের বিষয় গামলা থেকে ঘটি অনেক ছোট ছিল, এত জল কোথা থেকে এলো? সেই অত্যাশ্চর্য্য দৃশ্য দেখে আমাদের যে কি আনন্দ হয়েছিল তা লেখা দ্বারা প্রকাশ করা সম্ভব নয় ৷
শ্রীমতী ঊষারানী গঙ্গোপাধ্যায় লিখিত - "আমার জীবনে শ্রীশ্রীরামঠাকুর"
শ্রীশ্রীঠাকুর প্রারব্ধ বিষয়ে পুনঃ পুনঃ বিশেষ জোর দেওয়ায় এবং নামের অসীম শক্তি বলিয়াও অনেক সময় নির্দ্দেশ করায়, আমি একদিন তাঁহাকে প্রারব্ধের অলঙ্ঘনীয় ভোগের বিষয় আলোচনাকালে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম-"প্রারব্ধ ভোগ কি নামেও কাটেনা?"
ঠাকুর তৎক্ষনাৎ উত্তর দিয়াছিলেন-"নামে সবই কাটে"।
সুতরাং প্রারব্ধ ঋণ শোধ করিতে হইলে," অবিশ্রান্ত নামের আশ্রয়ে থাকার চেষ্টাই আমাদের একমাত্র সম্বল"।
জয় রাম,জয় গোবিন্দ, জয় সত্যনারায়ণ
🙏,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
জননাশৌচ বা জাতকাশৌচে ঠাকুরের লীলা ঃ-
আসামের ডিব্রুগড়ে অনুপমা ভট্টাচার্যের বাড়ী। প্রায় প্রতি বছর ঠাকুরের উপস্থিতিতেএখানে উৎসব হয়। এবারও উৎসবের আয়োজন হয়েছে। ঠাকুরও শ্রীদেহে উপস্থিত আছেন। পাশের বাড়ীর চঞ্চলার মা। অভাবের সংসার তাই সকলের বাড়ীতে কাজ কর্ম করেন। এবার উৎসবে ঠাকুরের নাম পাবার বাসনা তাঁর মনে। কিন্তু আশা করলেই কি হয়? উৎসবের মাত্র দুই দিন আগে তিনি হলেন পুত্র সন্তানের জননী। তাই এবার উৎসবেও যাওয়া হলো না, নাম নেয়ার আশাও পূর্ণ হবে না। উৎসবের দিন সকালে ঠাকুর কাহাকেও কিছু না বলে নিজের বিছানা হতে সোজা চলে এলেন চঞ্চলার মার আঁতুড় ঘরে। এখানে হঠাৎ ঠাকুরকে দেখে চঞ্চলার মা আঁৎকে উঠে বললেন, ‘বাবা, এ যে অশৌচ ঘর।’ ঠাকুর তাকে বললেন, “না, মা-শৌচ অশৌচ মনের। নেন এই আপনার নাম।” ঠাকুর আঁতুড় ঘরেই চঞ্চলার মাকে নামাশ্রয় দিলেন। চঞ্চলার মা ঠাকুরকে চার আনা পয়সা দক্ষিণা দিয়ে প্রণাম করলেন। ঠাকুরও সেখান থেকে সোজা এসে তাঁর বিছানায় উপর নির্বিকার বসে রইলেন।
ঠাকুর এ লীলায় আমাদের কি শিক্ষা দিলেন? আর আমরাই বা কি শিখলাম? এতে কি আমাদের মনের দ্বিধা কাটবে? যদি না কাটে তা হলে কি ঠাকুরের লীলা ব্যর্থ হবে? তবে মনে রাখতে হবে, ঠাকুরের লীলা অব্যর্থ। ব্যর্থ হতে পারে আমাদের মনোবৃত্তির। আমরা কেহ কেহ কখনও কখনও ঠাকুরের কথা মানতেও দ্বিধা করি। হয়ত তাঁর পরমভাব বুঝতে পারি না। যে তিমিরে আছি, সে তিমিরেই থাকতে চাই চিরকাল। কিছুতেই আমাদের মনের অশৌচও ঘুচেনা। ঠাকুর আঁতুড় ঘরে গেলেন, সেখানেই প্রসুতি মাকে ঐ অবস্থায় নাম দিলেন। অশূচি হলেন না ঠাকুর, অশূচি হলো না মহানাম। শূচি হলো চঞ্চলার মার দেহ-মন-প্রাণ। এভাবে দেবার নেবার সাহস আছে ক’জনের? তবে কয়লা ধুইলে যেমন ময়লা যায় না, তেমনি আমাদের মনের ময়লাও যাবে কিনা জানি না।
**মৃতাশৌচে ঠাকুরের লীলাঃ- সংসারে একটি নিষ্পাপ শিশু জন্মিলে বা আপনজন কেহ মারা গেলে, আমরা গোষ্ঠি শুদ্ধ সকলে যেন অপবিত্র হয়ে যাই। এটা যতটুকু আমাদের মমতায় তার চেয়ে বেশী নিজেদের অমঙ্গলের আশঙ্কায়। সর্ব শুচিতার জন্য অশৌচ পালন অতি উত্তম। তবে অশৌচ পালন না করলে যদি অন্যেরা কিছু বলে, যদি কোন ভূতে চেপে ধরে? এসব না মানলে যদি ভূতে গিলে ফেলে? এ সব ভুতের ভয়ে, লোকের ভয়ে আর নিজের অমঙ্গলের আশঙ্কায় আমরা অহেতুক বাড়াবাড়িও করি। অশৌচ বলে প্রাণের ঠাকুরের সেবা-পূজার কথাও ভুলে যাই। আবার বন্ধও করে ফেলি মঙ্গলময

জয় রাম জয় গুরু হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ জয় রাম জয় রাম জয় রাম
ঠাকুরমশাই চৌমুহনীর বাড়িতে আছেন। বহু লোক ঠাকুর মশাইয়ের কাছে 'নাম' পাওয়ার জন্য এসেছেন। যথাসময়ে 'নাম' পাওয়ার পর ঠাকুরমশাই সবাইকে বললেন, আপনারা উপেনবাবুর বাড়িতেই প্রসাদ পেয়ে যাবেন। নামপ্রার্থীদের মধ্যে একজন ব্রাহ্মন দম্পতি ছিলেন। তাঁরা রান্নাঘরে গিয়ে দেখেন কোন ব্রাহ্মন ঠাকুরকে দিয়ে রান্না করানোর পরিবর্তে আমার মা নিজেই ভক্তদের জন্য রান্না করছেন। এতে তাঁরা খুব অস্বস্তিতে পড়লেন। ব্রাহ্মন হয়ে সাহার হাতের রান্না খাবেন? কিছুক্ষণ পর মাকে বললেন, একটা স্টোভ দিতে, ওনাদের রান্না ওনারা নিজেরাই করে নেবেন। মা স্টোভ দিতেই ওনারা সবে মাত্র ভাতের হাঁড়ি চাপাতে উদ্যত হয়েছেন এমন সময় ঠাকুরমশাই রান্নাঘরে এসে দুই হাত প্রসারিত করে রান্নাঘরের দরজার দুপাশের পাল্লায় হাত রেখে বললেন, এখানে যাই খাবেন, সবই প্রসাদ, এমন কি মাছ মাংস খেলে সেটাও প্রসাদ। এরপর ব্রাহ্মন দম্পতির অবস্থা সহজেই অনুমেয়। [এই ঘটনাটি আমার বড় ভাই শ্রীবিমলেন্দু বিকাশ সাহার কাছে থেকে সংগৃহীত।]
কিছু কথা
"শবরী"
শ্রীমতী রঞ্জু সাহা
পতিসেবাই পরম ধর্ম্ম,
পতি সেবাই চিরমঙ্গল জানিবেন।
ভগবান পতিসেবারূপে এই ত্রিজগতে অধিষ্ঠান থাকেন।
সব্বর্দাই পতি চিন্তা করিবেন, সেই চিন্তা হইতেই পতিদেবতা মঙ্গল আবরণে থাকিয়া শান্তিবর্ষণ করিবেন।
সব্বর্দাই নামে লিপ্ত থাকিতে চেষ্টা করিবেন।
প্রাক্তনই সম্বন্ধ বিবর্জয় করিয়া আবার প্রাক্তনই নির্ম্মঞ্ছন করিয়া থাকে।
ভাগ্যে যখন যাহা ঘটিবে তাহার জন্য উপীড়ণ বুদ্ধিকে ধৈর্য্য [?] ধরার সঙ্গে রাখিয়া ভগবৎ উদ্দেশ্যে পবিত্র চিত্তেতে নামের প্রতিষ্ঠা করিয়া নিত্য সেই পতিদেবতার নিত্য নাম স্বরূপের সেবা করিবেন।
সত্যই পরম ধর্ম্ম, সত্যকে সব্বর্দাই হৃদয়ে প্রতিষ্ঠা রাখিতে হয়।
সত্যই সর্ব্বশক্তিমান, সত্য ছাড়া এই ত্রিজগতে আর কিছুই নিত্য নয়।(সত্যং পরং ধীমহি) সত্যই জাগ্ৰত থাকিবে।"
"সর্ব্বমঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সর্ব্বার্থসাধিকে।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরী নারায়ণি নমোহস্ততে।।"
.... শ্রী শ্রী রামঠাকুর 🙏🙏
বেদবাণী:- ৩/৭


শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবনী অবলম্বনে (১৭)🌹
বেলা ৫ ঘটিকায় মা আনন্দময়ী আমার বাসায় পদার্পণ করিলেন। বাহিরের দরজার নিকট মাকে প্রনাম করিলে তিনি হাসিয়া আমার সহিত ঠাকুরঘরে প্রবেশ করিলেন। অতি কষ্টে লোকের ভীর কাটাইয়া মাকে ঠাকুরের খাটের উপর তুলিয়া দিলাম। ঠাকুর ও মা দুজনেই দুজনের মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন। বহু সময় বোধ হয়, আধঘন্টা হইবে, এইভাবে বসিয়া থাকার পরে মা বলিলেন, "এই বার যাই।" ঠাকুরেরও উত্তরে শুধু বলিতে শুনিলাম, " আচ্ছা।" আর কোন কথাই আমারা শুনি নাই বা বুঝি নাই। চক্ষের ভাষায় তাঁহারা পরস্পরের ভাব বিনিময় করিলেন, অনুমান করিলাম।
জয়রাম
"শ্রীগুরু শ্রীশ্রীরামঠাকুর "- শ্রীরোহিনী কুমার মজুমদার।

গুরুই কৃষ্ণ, সচ্চিদানন্দ।
গুরু = বীজ (নাম )
সার = (তার বাণী) যাহা হৃদয় ভূমির উর্ব্বরতা বৃদ্ধি করে।
ভূমি = শিষ্যহৃদয়
বীজের ভূমির প্রতি সর্বদাই আকর্ষণ থাকে। তাই গুরুরও শিষ্যের হৃদয় ভূমির দিকে আকর্ষণ থাকে যাহাতে শিষ্যহৃদয়ে আধ্যাত্মিক নামরূপী বীজটি অন্কুরিত, পল্লবিত হইয়া ফলায়িত হয়। শিষ্যের হৃদয়ভূমির উর্ব্বরতার উপর নামবীজের অন্কুরিত হওয়া নির্ভর করে। হৃদয়ভূমির উর্ব্বরতাই নির্ম্মলতা, আকুলতা। গুরুশক্তি দ্বারাই এই উভয়ের সমাবেশ সম্ভবপর হয়।
জয়রাম

-"শ্রীশ্রী রাম পূজা"-শ্রীরামের শ্রীচরণাশ্রিত ডাক্তার শ্রীযতীন্দ্র চন্দ্র দেব রায়।
অধিকাংশ হিন্দুগৃহেই শ্রীশ্রীলক্ষ্মীদেবীর আসন স্থাপিত আছে। নিত্যপূজা ছাড়াও মেয়েরা বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর ব্রতকথা পাঠান্তে পূজা করে থাকেন। ঠাকুর এই প্রথার বিশেষ প্রশংসা করতেন। তিনি বলতেন, "শ্রাদ্ধভক্তিসহ লক্ষ্মীপূজা করলে লক্ষ্মীর কৃপালাভ হয়, কোন অভাব থাকে না।"
জয়রাম 🌺🌿
'শ্রীশ্রীঠাকুর রামচন্দ্রদেব'- শ্রীসুশীলচন্দ্র দত্ত

No comments:

Post a Comment

 Sri Kaibalyanath (Bengali: শ্রী কৈবল্যনাথ) (2 February 1860 – 1 May 1949), was a Bengali Spiritual guru during 19th-century. He was born as...