Monday, 31 March 2025

 

" সংসারে থাকিয়া ভগবৎ সেবায়
আত্মোৎ্সর্গ করিলে মুক্তিলাভ সহজ হয় " ।
:---- শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর
🌸জয় গুরু 🌸 জয় রাম 🌸
গুরু কৃপাহি কেবলম 🌸
🌸শুভ সকাল 🌸
শ্রীশ্রীঠাকুর আমার সর্ব্বজ্ঞ ।
আমাদের মনের কথা আরেক জনকে এমনভাবে বলিতেন যে ,তাহাতে মনে হইত আমাদের মনে
যেসব চিন্তার উদয় হইয়াছিল ,
তাহা বুঝি অকপটে শ্রীঠাকুরকে বলিয়াছি ।
বহুদিন পর্য্যন্ত আমার কোন সন্তানাদি হয় নাই ।
আমি ও আমার স্ত্রী মহা আনন্দে শ্রীঠাকুরের সহিত যত্রতত্র বেড়াইতাম ।
এইসময় আমার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হইলেন ।
আমার মনে সংসারের প্রতি কেমন যেন একটা উদাসীন
ভাবের উদয় হইল ।
মনে করিলাম , এই বুঝি সংসার একটু একটু করিয়া জড়াইতে আরম্ভ করিল ।
স্থির করিয়া বসিলাম ,
সকলের অগোচরে গৃহত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইব ।
ভাবী সন্তানের জন্য কোন চিন্তাই হইল না ।
আমি জানি আমার শিক্ষিতা স্ত্রী নিজের সন্তানের ভার অনায়াসে বহন করিতে পারিবেন ।
তাহা ছাড়া , তাঁহাদের সঙ্গে রহিলেন শ্রীঠাকুর ,
স্বয়ং ভগবান ।
আমার মনে কোন চিন্তা ব ভয় রহিল না ।
স্থির করিলাম , সুযোগ পাইলেই দুই-এক দিনের মধ্যেই গৃহ ছাড়িয়া পলায়ন করিব ।
এই কথা কাহাকেও বলি নাই ।
আমি একটি ঘরে রাত্রিতে একাই শয়ন করিতাম ।
পাশের ঘরে আমার স্ত্রী ও আমার অল্পবয়সী বিধবা ভগনীর সহিত শয়ন করিতেন ।
নির্দ্ধারিত দিনে খাওয়ার পরে গিয়া শুইয়া পারিলাম ।
আমার স্ত্রী অন্যান্য দিনের মত পান ও জল লইয়া আসিলেন , কিন্তু অবাক হইয়া দেখিলাম যে ,
তিনি নিজের শয়ন ঘরে না যাইয়া আমারই শয়নঘরে রহিলেন ।
তাঁহার এই কার্য্যকলাপে আমি বিস্মিত ও
বিরক্ত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম ,
তুমি এখানে এলে কেন ?
স্ত্রী বলিলেন , আজ এখানেই শয়ন করিব ।
আমি বলিলাম , তোমার এ কোন্ আবদার ?
যুবতী বোন একাকী ঘরে শয়ন করিবে ,
আর আমরা দুজনে এখানে শয়ন করিব ,
ইহা কখনো হইতে পরে না ।
তুমি ঐ ঘরে চলিয়া যাও ।
আমার স্ত্রী তখন কাঁদিয়া ফেলিলেন এবং আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন ,
তুমি নাকি আমাদের ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইতেছ ?
এই প্রশ্নে আমি অবাক হইয়া ভাবিতে লাগিলাম ,
যে কথা একমাএ আমি নিজেই জানি ,
এ জগতের কাহাকেও মুখ খুলিয়া বলি নাই ,
সে কথা আমার স্ত্রী কি করিয়া জানিলেন ?
আমি বলিলাম , কে তোমাকে এই কথা বলেছে ?
আমার স্ত্রী কাঁদিয়া কাঁদিয়া বলিলেন ,
আগে তুমি প্রতিজ্ঞা কর , যতদিন আমি বাঁচিয়া থাকিব তুমি গৃহত্যাগ করিবে না ।
তাহা হইলে আমি সবই বলিব ।
অগত্যা স্ত্রীর নিকট কথা দিতে হইল ,
তিনি বাঁচিয়া থাকিতে গৃহত্যাগ করিব না ।
তখন আমার স্ত্রী বলিলেন ,
শ্রীঠাকুর আমাকে ও তোমার বোনকে বলিয়াছেন যে , রোহীনীবাবু গৃহত্যাগ করিয়া যাইতে মনস্থ করিয়াছেন । আপনারা তাহাকে ধরিয়া রাখার চেষ্টা করেন ,
কিছুতেই যেন পালাইতে না পারেন ।
শ্রীঠাকুরের উপর খুবই অভিমান হইল ।
সারা রাত্রি আর ঘুম হইল না ।
প্রভাতে হাত-মুখ ধুইয়া শ্রীঠাকুরের ঘরে প্রবেশ করিলাম ।
শ্রীঠাকুর আমাকে দেখিয়াই হাসিতে লাগিলেন ।
খাতা-পেন্সিল লইয়া ছবি আঁকিয়া আমাকে
বুঝাইতে লাগিলেন যে , সংসার ত্যাগ না করিয়া বরং
সংসারে থাকিয়া ভগবৎ সেবায় আত্মোৎ্সর্গ করিলে মুক্তিলাভ সহজ হয় ।
এতক্ষণ পরে শ্রীঠাকুরকে বলিলাম ,
এমন ভাবে আমাকে জব্দ না করিয়া এই সকল কথা তো
আগেই আমাকে বুঝাইতে পারিতেন ।
এই কথা শুনিয়া শ্রীঠাকুর একটু হাসিয়া অন্য প্রসঙ্গ আরম্ভ করিলেন ।
সেই দিন হইতে আর সংসার ত্যাগের বাসনা
কোন দিনই মনে আসে নাই ।
রোহীনী কুমার মজুমদার ।
" শ্রীগুরু শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর "
পৃষ্টা সংখ্যা ৪৬ হইতে ।

 

মায়ের কোন পুত্র সন্তান নাই।
---------------------------------------
শ্রীশ্রীঠাকুর একদিন মা'কে বললেন------ "মা, ছেলে নাই দেইখা দুঃখ করবেন না। এই সকল সন্তান থাইক্যা দুঃখই আসে। আপনার ছেলের কাজ আমি করুম।"
তাঁর বাণী তো মিথ্যা হ'তে পারে না। ঠাকুর যে অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ হয়ে আমার মা বাবার সকল পুত্রকৃত্য করছেন, এই অটল বিশ্বাস তাঁদের আজীবন শক্তিদান করেছে।
মা জিজ্ঞাসা করছেন শ্রীশ্রীঠাকুরকে "মরবার সময় আপনি থাকবেন তো"? ঠাকুর অচঞ্চল হয়ে উত্তর দিচ্ছেন ---------- "আমি না আইলে আত্মা নিব কে ? আর কারো নেওনের অধিকার নাই।" তাঁর বরাভয়ে মৃত্যু ভয় পরাজিত ------ ভয় কি আমাদের ? সংসারের বন্ধন ছিন্ন ক'রে যখন যাত্রা শুরু হবে ঠাকুরই এসে হাত বাড়িয়ে দেবেন করুণার শীতল স্পর্শে -------- ধন্য হয়ে যাবে আশ্রিত জন।
একদিন আসামে গুরুভগ্নি সুরেশ বাবুর মা রোগশয্যায় আছেন। আমাদের গুরু ভাই রমণীমোহন ধর রাত্রে পথ দিয়ে আসছেন। জ্যোৎস্নায় পথ ঘাট স্পষ্ট --------- কিন্তু একি! রেল লাইন ধরে ঠাকুর চলছেন দ্রুত পায়ে কিন্তু যেন তাঁর চরণ মাঠি স্পর্শ করছে না।
আর সুরেশ বাবুর মা ঠাকুরের পিছন পিছন চলছেন। রমণী দা আমাদের বাড়ি এসে তখনই বললেন, একি আশ্চর্য ব্যাপার দেখলাম। ঠাকুর রাত্রে সুরেশ বাবুর মাকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন?' সেই দিনই সেই সময় সুরেশ বাবুর মা দেহত্যাগ করেছেন, পরে খবর পাওয়া গেলো।
বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন নয় -------- এ ঘটনা কেউ বিশ্বাস করুক বা নাই করুক, আমি ভরসায় বুক বেঁধে আছি ------ শেষের দিনে ঠাকুর তুমি আমার থাকবেই। এই আমার শেষ কথা।🙏
।।জয় রাম জয় গুরু জয় গোবিন্দ।।
সংগৃহীত ঃ-- শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর আবির্ভাব শতবার্ষিকী স্মারক গ্রন্থ হইতে 🙏🙏
১) ভগবত শক্তিদ্বারা ভগবৎসেবার শক্তি পাওয়া যায় । সত্যধর্ম্ন পরিচর্য্যাই পরমানন্দ উৎপন্ন করিয়া থাকে।
২)সত্যকে সেবা করিতে করিতে সতী হয়। পতিব্রতা হইলে কালের হাত হইতে সত্যকে উদ্ধার করা যায়।
বেদবাণী🙏
------------

Monday, 3 March 2025

 নাম শুনতে মন লাগে না ।

মন যেইখানে ইচ্ছা ঘুইরা বেড়াক ।
তুমি নাম শুনবার চেষ্টা করবা ।
জয়রাম 卐 জয়গুরু ।
🌼 শুভ সকাল ।
আমি ঠাকুরকে বলিলাম ,
নাম করতে বসলে মন বিভিন্ন স্থানে ও বিষয়ে ঘুরে বেড়ায় ।
নাম হয় না , কি নাম দিলেন ?
শ্রীঠাকুর বলিলেন -----
" তোমার পূর্বজন্মের সাধিত নাম শুনাইছি ,
নাম দেই নাই " ।
" মাতৃজঠরেও নাম শুনাইছিলাম " ।
" প্রকৃতির রাজ্যে আইসা নাম ভুইলা গেছ " ।
" পুনরায় নাম স্মরণ করাইয়া দিছি " ।
" নাম করে শিবরুপী প্রাণে " ।
" নাম আবরণ হীন " ।
" তাই মনের সংকল্প বিকল্পের অপেক্ষা রাখে না " ।
" অবিরাম নাম হয় " ।
" নাম শুনতে মন লাগে না " ।
" মন যেইখানে ইচ্ছা ঘুইরা বেড়াক " ।
" তুমি নাম শুনবার চেষ্টা করবা " ।
" মনের দিকে লক্ষ্য রাখবা না " ।
" মনের গতি চিরচঞ্চল " ।
" মন যতই চঞ্চল হউক ,
আর যেইখানে যাউক না কেন ,
ফিরা আবার নিজের জায়গায় আসব " ।
" ফিরা আইসা তুমি যেই নাম শুনছ ,
মনও সেই নাম শুনতে পাইব " ।
" তুমি সর্বদা নাম শুনবার জন্য অভ্যাস কর " ।
" তা হইলে মনও বিষয়ান্তর থাইকা ফিরা আইসা
নাম শুনতে শুনতে ক্রমে ক্রমে চঞ্চলতা ত্যাগ কইরা স্থির
ভাব ধারণ করব " ।
" তখন মন প্রাণের সঙ্গে যুক্ত হইয়া মঞ্জুরী হইয়া যাইব " । " ধ্যানের উদয় হইব " ।
: - - শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর ।
" জয়রাম "
শ্রী ফনীন্দ্র কুমার মালাকার লিখিত ,
" রামভাই স্মরণে "
পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩২ হইতে


 

গুরু কৃপা হি কেবলম...👏
জয় রাম, জয় গোবিন্দ—

 

ভবিতব্য প্রজাপতি নিবন্ধন -
ভবিতব্য যেখানে হইবে জন্ম মৃত্যু বিবাহ তাহা হইবেই। ইহার খন্ডনকারী এই ত্রিজগতে কেহই নাই ।
-বেদবাণী ২/১৪২
-জয় রাম

 

একবার তাঁর মূল্যবান উপদেশ দেবার পর ঠাকুর বলেছিলেন : 'আমার দৃষ্টতা মার্জনা করিবেন ।আমি উপদেষ্টা নই, আমি দৃষ্টান্ত মাত্র'। সত্যি সত্যি তিনি ছিলেন জীবন্ত দৃষ্টান্ত ।কেমন ছিল তাঁর সেই ভাগ্যবান ভক্তকুলের অভিজ্ঞতা যাঁরা তাঁর খুব কাছাকাছি আসার সুযোগ পেয়েছিলেন? তিনি ছিলেন মহাকাশের মতোই বিশাল, উদার, গভীর, দরাজ, স্থির ও শান্ত - যাঁকে টলাতে পারত না কোন ঝড়ঝাপটা, উত্তেজনা, দুর্ঘটনা, অপযশ, আনন্দ বা দুঃখ ।কোন ঋতুর কোনও প্রভাব তাঁর উপর পড়ত না। অসীম অনন্ত আকাশের মতোই তিনি সমস্ত মানুষের মধ্যেই সমান ভাবে বিতরণ করতেন তাঁর স্নেহ - ভালবাসা, তাদের সম্পদ - সমৃদ্ধি, বিদ্যা বুদ্ধি, জ্ঞান, পাপ ও পূণ্যের কোন বিচার না করেই। এমনকি তাঁকে যারা বিবিধ অপ্রয়োজনীয় অর্থহীন সব প্রশ্ন করত, বিন্দুমাত্র বিরক্ত না হয়ে পরম ধৈর্য্যের সঙ্গে তিনি তাদের অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করতেন।
জয় রাম 🌺🌿
গুরু কৃপাহি কেবলম্

 

পূজিত শ্রীপট্ পরিবর্ত্তন●
শ্রীশ্রীরামঠাকুর প্রসঙ্গে
¤ ¤ ¤ ¤ ¤ ¤ ¤
মৃণাল মজুমদার
গৃহে পূজিত শ্রীশ্রীঠাকুরের শ্রীপট্ বিশেষ কোন কারণে পরিবর্ত্তন করার প্রয়োজন হতে পারে। পূজিত শ্রীপট্ পরিবর্ত্তন করার সময় কি কি করণীয় তা শ্রীশ্রীঠাকুর স্বয়ং বিশদে নির্দ্দেশ দিয়ে গিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শ্রীধাম কৈবল্যধাম, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম আশ্রমের শ্রীমন্দিরে শ্রীপট্ পরিবর্ত্তন এবং শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ-পট প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত শ্রীশ্রীঠাকুরের পরমভক্ত অন্যতম পার্ষদ শ্রীযুক্ত সদানন্দ চক্রবর্ত্তী মহাশয়ের একখানি গ্রন্থ থেকে এখানে উল্লিখিত হল। - - - -
মৃনাল
- - - - ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ। শ্রীশ্রীঠাকুর চট্টগ্রামে শ্রীযুক্ত প্রসন্ন গুপ্ত মহাশয়ের গৃহে শুভবিজয় করিতেছেন। শ্রীধাম প্রতিষ্ঠার দিন নিকটবর্ত্তী হইতেছে। শ্রদ্ধেয় অখিল রায় মহাশয় ঠাকুর মহাশয়ের নিকট জানতে চাইলেন, শ্রীধামে কোন দেবতার মূর্ত্তি স্থাপন করা হইবে। অখিলদার কথা শুনিয়া ঠাকুর বলিলেন, "গৌর-নিতাই রাখতে পারেন, রাধাকৃষ্ণ রাখতে পারেন, শিব রাখতে পারেন, কালী রাখতে পারেন।"
সদানন্দদা বলিলেন যে সেইদিন প্রসন্ন গুপ্তের গৃহে কতিপয় ঠাকুর আশ্রিত ভক্তদের মধ্যে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। বয়স্ক ভক্তদের মাঝে তরুণ সদানন্দ অনতিদূরে বসিয়া শ্রীধাম আশ্রমে মূর্ত্তি স্থাপন প্রসঙ্গে ঠাকুর মহাশয়ের উক্তিগুলি শুনিবার পরে অখিলদাকে বলিতে শুনিয়াছিলেন, "ঠাকুর মশায়, আমরা আপনার শ্রীপট্ বসাইতে চাই।" অখিলদার এই কথার উত্তরে শ্রীশ্রীঠাকুর কহিলেন, "আপনেরা কইলেতো হইবো না, সকলের মত নিয়া বসান।"
শ্রীপট্ প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি স্বরূপ শ্রীশ্রীঠাকুরের এমন উক্তি শুনিবার পরে উপস্থিত গণ্যমান্য সকলেই পরমানন্দ বোধ করিলেন। তাঁহারা অনুমানে বুঝিলেন ঠাকুরের শ্রীপট্ প্রতিষ্ঠায় তাঁহার অনিচ্ছা কিছু নাই।
এই রূপে মহাধুমধামের সহিত শ্রীশ্রীকৈবল্যধাম আশ্রম প্রতিষ্ঠা দিবসে সকলের পছন্দ মত মনমোহনদার প্রথম তোলা শ্রীশ্রীঠাকুরের ঊর্দ্ধনেত্র ধ্যানস্থ ছবিখানা প্রতিষ্ঠিত হইল। তৎপর প্রতিদিন তাহাই পূজিত হইয়া আসিতেছিল।
১৯৩১ খৃষ্টাব্দ। ফাল্গুন মাস। দোল পূর্ণিমার পূর্বে চট্টগ্রামে শ্রীযুক্ত বিধুভূষণ মহাশয়ের গৃহে শ্রীশ্রীঠাকুর সর্ব্ব সমক্ষে প্রকাশ করিলেন যে তিনি শ্রীধাম আশ্রমে তিনরাত্রি বাস করিবেন। আশ্রম প্রতিষ্ঠার প্রায় আট মাস পরে চট্টগ্রামে পাহাড়তলী শ্রীশ্রীকৈবল্যধাম আশ্রমে পতিত পাবন ঠাকুর শ্রীরামচন্দ্রদেব মাত্র তিন রাত্রি বাস করিয়াছিলেন। ইহার পর শ্রীরামঠাকুর মহাশয় আর কোনদিন শ্রীদেহে আশ্রমে প্রবেশ করেন নাই। কেহ অনুরোধ করিলে ঠাকুর মহাশয়ের সেই বিখ্যাত উক্তি, - "আমার ত কোন আশ্রম নাই, আপনাদের গৃহই আমার আশ্রম, আশ্রম বাসে গুরুর আজ্ঞা নাই।" যথাসময়ে দোল পূর্ণিমা উৎসবে কৈবল্যধামে শ্রীদেহে শ্রীশ্রাঠাকুরের শুভাগমন ঘটিল। শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ দর্শন করিতে ঠাকুর মহাশয় শ্রীমন্দিরে প্রবেশ করিলেন। পূর্ব্ব প্রতিষ্ঠিত শ্রীপট্ দর্শন করিয়াই ঠাকুর মহাশয় বলিয়া উঠিলেন, "ইনি তো নির্ব্বংশীয়া মূর্ত্তি। এই মূর্ত্তির পূজা হয় না।" শ্রীশ্রীঠাকুরের এবম্বিধ উক্তি শুনিয়া ভক্তদের মধ্যে মৃদু গুঞ্জন উঠিল। এখন উপায় ? ফটোগ্রাফার শ্রদ্ধেয় মনমোহন পাইন মহাশয়ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁহার নিকট বর্তমান কৈবল্যপট্ সম্বন্ধে ঠাকুরের গুরুদেবের পছন্দ হওয়ার কথা বিস্তারিত ভাবে শুনিয়া সকল ভক্তগণ স্থির করিলেন, পরমগুরুর পছন্দের ছবি কৈবল্যনাথের পট্ বসান হইবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠিল পূজিত পটের স্থানে অন্য পট্ স্থাপন করা কি উচিত হইবে? সকল সংঙ্কট মোচন কর্ত্তা যিনি, তিনি যখন স্বয়ং উপস্থিত, তখন ভাবনার কি আছে। সুতরাং পূজিত পটের স্থানে অন্য পট্ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার উপায় জানিতে চাহিলে ঠাকুর মহাশয় পট্ পরিবর্ত্তন কিরূপে করিতে হয় তাহা বিশদে বলিয়া দিলেন। তাহাতে কাহারও বুঝিতে অসুবিধা হইল না যে শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথের পট্ স্থাপনে ঠাকুরেরও সম্মতি আছে।
এইবার পট্ পরিবর্ত্তন কিরূপে করা হয় -- শ্রীশ্রীঠাকুরের নির্দ্দেশিত বিবরণ ছিল এইরূপ -- প্রথমে পূর্বের পূজিত শ্রীপট্ অর্থাৎ যে পট্ এতদিন পূজিত হইতেছিল তাঁহানকে নিত্য পূজা যে নিয়মে হইয়া আসিতেছিল সেইরূপ যথযথ ভাবে পূজা করিতে হইবে। তৎপরে পুষ্প পাত্র, কোশাকুশী, তাম্রকুন্ড ইত্যাদি ধুইয়া মুছিয়া এবং পূজার স্থান পরিস্কার করিয়া পুনরায় পূজার আয়োজন করিতে হইবে। এই বার প্রথম শ্রীপটের উপর দ্বিতীয় শ্রীপট্ অর্থাৎ যাঁহানকে প্রতিষ্ঠিত করিতে হইবে তাঁহানকে এমন ভাবে রাখিতে হইবে যাহাতে পূর্বের শ্রীপটখানা সম্পূর্ণ ঢাকা পড়িয়া যায়। এইবার পূজারীকে করজোড়ে প্রার্থনা করিতে হইবে এই বলিয়া - " আপনি কৃপা করিয়া এই শ্রীপটে প্রকাশিত হউন।"
প্রার্থনা অন্তে পূর্বের পূজার ন্যায় পুনরায় যথাযথ পূজা সম্পন্ন করিয়া প্রথম অর্থাৎ পশ্চাতের পট্ খানা পার্শ্ব দিয়া ধীরে ধীরে টানিয়া বাহির করিয়া দেওয়ালে টাঙ্গাইয়া রাখিতে হইবে। বলাবাহুল্য কোনরূপ অসুবিধা না হইলে, শঙ্খ,কাঁসর ঘন্টা বাদ্য এবং বারে বারে হরিধ্বনি উলুধ্বনি করা বিধেয়। কীর্ত্তন হইলে তাহাও চালাইয়া যাইতে হইবে।
এই রূপে চট্টগ্রাম পাহাড়তলী শ্রীকৈবল্যধাম আশ্রম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কয়েকমাস পরে শ্রীধামে শ্রীশ্রীঠাকুরের উপস্থিতির মধ্যে উপরিউক্ত নিয়মে মহাধুমধামের সহিত প্রথম শ্রীপটের স্থানে বর্ত্তমান শ্রীকৈবল্যনাথের শ্রীপট্ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান সুসম্পন্ন হইয়াছিল। সেই হইতে শ্রীশ্রীকৈবল্যধাম আশ্রমে শ্রীকৈবল্যনাথের শ্রীপট্ অদ্যাপিও পূজিত হইয়া আসিতেছেন।
জয় রাম
¤ ¤ ¤ ¤ ¤ ¤ ¤
'ছন্নাবতার শ্রীশ্রীরামঠাকুর'
শ্রীসদানন্দ চক্রব্ত্তী,
( পৃ ৬০, ৬১, ৬২ )

নাম' নেওয়ার পর তাহার আত্মা মুক্ত হইয়া গেল।"

 

শ্রীশ্রীঠাকুর যে কেবল দেহধারী জীবকেই কৃপা করিয়াছেন তাহা নহে, বহু অশরীরী আত্মা তাঁহার নিকট কৃপা লাভ করিয়াছেন। চাঁদপুরে একদিন সকাল বেলা ঠাকুরের নিকট বসিয়া আছি, ঠাকুর একখানা তক্তপোষের উপর বসিয়াছিলেন। নিকট অপর লোক কেহ ছিল না। এমন সময় চাঁদপুর চিটাগাং কোম্পানির বড় বাবু রাজেন্দ্র নাথ সেন মহাশয় তাহার নব বিবাহিত দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীকে নিয়া ঠাকুরের নিকট আসিয়া "নাম" প্রার্থী হইলেন। ঠাকুর রাজেন বাবুকে সস্ত্রীক নাম ও তৎ সঙ্গে উপদেশ দিলেন। রাজেন বাবু ও তাহার স্ত্রী ঠাকুরকে প্রণাম করিয়া ঘরের বাহির হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ঠাকুর বলিয়া উঠিলেন "এই যে নীল রঙের শাড়ি পরা একটি মহিলা রাজেন বাবুর পাশে বসিয়া নাম নিল সে কোথায় গেল।" আমি বলিলাম "আমি ত এরূপ কোন মহিলা দেখি নাই।" ঠাকুর একটু নিঃশব্দ থাকিয়া বলিলেন "রাজেন বাবুর মৃত স্ত্রী রাজেন বাবুর সঙ্গে একত্রে নাম নিয়া গেলেন। তিনি অশরীরী কিনা সেই জন্য আপনি দেখিতে পান নাই। 'নাম' নেওয়ার পর তাহার আত্মা মুক্ত হইয়া গেল।"
" তাঁর স্মরণে" ---- শ্রী উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
(শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর আবির্ভাব শতবার্ষিকী স্মারকগ্রন্হ)
জয় রাম 🌺🌿

শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণী: নাম মহিমা ও সত্যনারায়ণের তত্ত্ব

 


"শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণী: নাম মহিমা ও সত্যনারায়ণের তত্ত্ব"



(ব্যাকগ্রাউন্ডে মৃদু ভক্তিমূলক সংগীত বাজবে)

🔆 স্ক্রিনে লেখা আসবে:
"নাম লয় শব্দের অর্থ ফেলে না… নাম সত্য নিত্য…"

🎤 ভয়েসওভার:
"নাম কেবল শব্দ নয়, নাম চেতনার সঙ্গে গাঁথা। শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণী আমাদের শোনায় সত্য ও ধর্মের গভীর তত্ত্ব। আজকের এই ভিডিওতে আমরা আলোচনা করবো—নামের শক্তি, মনের প্রকৃতি, এবং কীর্তনের আনন্দ।"

(তারপর স্ক্রিনে ভিডিওর টাইটেল দেখানো হবে)
📜 "বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড (১৩): নাম মহিমা ও মনের প্রকৃতি"


ভিডিও স্ক্রিপ্ট (মূল অংশ)

 বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড,(১৩)নং পত্রাংশ। শ্রীশ্রী রামঠাকুর। (১৩) নাম লয় শব্দের অর্থ ফেলে না। নামের সম্বন্ধ মনের সঙ্গে হয় না, প্রাণের সঙ্গে গাঁথা থাকে বলিয়া নাম লয়। মনের দ্বারা সুখ-দুঃখ ভোগ হয়, মনের সঙ্গকে ভাগ্যকে, অদৃষ্ট বলিয়া তত্ত্বদর্শিগণ নির্ণয় করিয়াছেন। ”মন:করোতি পাপানি মনো লিপ্যতে পাতকৈ:”, অতএব নাম লইয়া পড়িয়া থাকাই কর্ম্ম, নাম ধরিয়া রাখাই ধর্ম্ম, মনের দ্বারা যে সকল কার্য্য হয় [তাহা] কল্প ক্ষয়শীল। ”নাম চিন্তামণি: কৃষ্ণশ্চৈতন্য রসবিগ্রহ:। নিত্যশুদ্ধো নিত্যমুক্তোহভিন্নাত্মা নাম নামিনো:। । ” ………নামের কোন শব্দ অর্থ নাই, নাম সত্য নিত্য;তাহার কীর্ত্তনই আনন্দ। এইজন্য লোকে সত্যনারায়ণ বলে।


🔷 নামের শক্তি:
"শ্রীশ্রী রামঠাকুর বলেছেন—নামের কোনো শব্দার্থ নেই, নামই সত্য, নামই নিত্য। তাই নাম শুধু উচ্চারণের বিষয় নয়, নাম অনুভবের বিষয়।"

📜 উদ্ধৃতি:
"নাম চিন্তামণি: কৃষ্ণশ্চৈতন্য রসবিগ্রহ:"
ব্যাখ্যা: চিন্তামণি অর্থাৎ যা কিছু ভাবা হয়, তাই পূর্ণ হয়। কৃষ্ণনামও চিন্তামণির মতোই—এটি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, মুক্তির পথ দেখায়।

🔷 মনের প্রকৃতি ও ভোগ-বেদনা:
"মন দ্বারা সুখ-দুঃখ ভোগ হয়। মনের সঙ্গে নামের সম্পর্ক নেই, নাম প্রাণের সঙ্গে গাঁথা।"
অর্থ: আমাদের মন পরিবর্তনশীল, এটি কখনো সুখে, কখনো দুঃখে থাকে। কিন্তু নাম ধ্যান করলে মন অস্থিরতা হারায়, সত্যের দিকে ধাবিত হয়।

📜 উদ্ধৃতি:
"মনঃ করোতি পাপানি মনো লিপ্যতে পাতকৈ:"
ব্যাখ্যা: মনই পাপ করায়, মনই পাপে লিপ্ত হয়। তাই শুধুমাত্র মানসিক চিন্তাভাবনায় নয়, নামের সঙ্গে প্রাণের সংযোগ ঘটাতে হবে।

🔷 নামের কীর্ত্তনই আনন্দ:
"তাহার কীর্ত্তনই আনন্দ। এইজন্য লোকে সত্যনারায়ণ বলে।"
অর্থ: সত্যনারায়ণ অর্থাৎ যিনি সর্বদা সত্য, যাঁর নাম ও স্মরণ আনন্দের উৎস। তাই নাম কীর্তন করাই প্রকৃত সুখের উপায়।



🎤 ভয়েসওভার:
"নামের মধ্যে অপরিসীম শক্তি রয়েছে। এটি শুধু উচ্চারণের বিষয় নয়, এটি আত্মার মুক্তির পথ। তাই শ্রীশ্রী রামঠাকুরের এই উপদেশ আমাদের প্রতিদিনের জীবনে গ্রহণ করা উচিত।"

📜 স্ক্রিনে লেখা আসবে:
🔹 "নাম ধরিয়া রাখাই ধর্ম্ম"
🔹 "নামের কীর্ত্তনই আনন্দ"

🙏 শেষ সংলাপ:
"আশা করি, আজকের আলোচনা আপনাদের ভালো লেগেছে। যদি উপকৃত হন, তাহলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করতে ভুলবেন না। আরো এমনই আধ্যাত্মিক জ্ঞান পেতে আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। জয় গুরু!"

(ব্যাকগ্রাউন্ডে ধীর লয়ে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের ভজন বাজতে থাকবে)

প্রণাম ও ধন্যবাদ। 

 Sri Kaibalyanath (Bengali: শ্রী কৈবল্যনাথ) (2 February 1860 – 1 May 1949), was a Bengali Spiritual guru during 19th-century. He was born as...