নাম শুনতে মন লাগে না ।
মন যেইখানে ইচ্ছা ঘুইরা বেড়াক ।
তুমি নাম শুনবার চেষ্টা করবা ।
আমি ঠাকুরকে বলিলাম ,
নাম করতে বসলে মন বিভিন্ন স্থানে ও বিষয়ে ঘুরে বেড়ায় ।
নাম হয় না , কি নাম দিলেন ?
শ্রীঠাকুর বলিলেন -----
" তোমার পূর্বজন্মের সাধিত নাম শুনাইছি ,
নাম দেই নাই " ।
" মাতৃজঠরেও নাম শুনাইছিলাম " ।
" প্রকৃতির রাজ্যে আইসা নাম ভুইলা গেছ " ।
" পুনরায় নাম স্মরণ করাইয়া দিছি " ।
" নাম করে শিবরুপী প্রাণে " ।
" নাম আবরণ হীন " ।
" তাই মনের সংকল্প বিকল্পের অপেক্ষা রাখে না " ।
" অবিরাম নাম হয় " ।
" নাম শুনতে মন লাগে না " ।
" মন যেইখানে ইচ্ছা ঘুইরা বেড়াক " ।
" তুমি নাম শুনবার চেষ্টা করবা " ।
" মনের দিকে লক্ষ্য রাখবা না " ।
" মনের গতি চিরচঞ্চল " ।
" মন যতই চঞ্চল হউক ,
আর যেইখানে যাউক না কেন ,
ফিরা আবার নিজের জায়গায় আসব " ।
" ফিরা আইসা তুমি যেই নাম শুনছ ,
মনও সেই নাম শুনতে পাইব " ।
" তুমি সর্বদা নাম শুনবার জন্য অভ্যাস কর " ।
" তা হইলে মনও বিষয়ান্তর থাইকা ফিরা আইসা
নাম শুনতে শুনতে ক্রমে ক্রমে চঞ্চলতা ত্যাগ কইরা স্থির
ভাব ধারণ করব " ।
" তখন মন প্রাণের সঙ্গে যুক্ত হইয়া মঞ্জুরী হইয়া যাইব " । " ধ্যানের উদয় হইব " ।
: - - শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর ।
" জয়রাম "
শ্রী ফনীন্দ্র কুমার মালাকার লিখিত ,
" রামভাই স্মরণে "
পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩২ হইতে
আমাদের দয়াল ঠাকুর জয়রাম উনার ভক্তগণকে কখনো কষ্টে থাকতে দেয় না, তিনি সর্বদা উনার ভক্ত গণের পাশে থাকে।। আমরা যদি সুখে দুঃখে নাম জপ করি এবং জয়রামের উপর অগাধ বিশ্বাস রাখি তবে তিনি আমাদের পাশে থাকবেই।।
ভক্তির অপর নাম শক্তি অর্থাৎ যার শ্রদ্ধা ভক্তি যত বেশি ,তার জ্ঞান শক্তি তত বেশি।। জনবল,বাহুবল, ধনবল নহে,তবে জ্ঞানে প্রকৃত শক্তি। তাই বলা হয় ভক্তিতে ভগবান ভক্তিতেই মুক্তি...
একবার তাঁর মূল্যবান উপদেশ দেবার পর ঠাকুর বলেছিলেন : 'আমার দৃষ্টতা মার্জনা করিবেন ।আমি উপদেষ্টা নই, আমি দৃষ্টান্ত মাত্র'। সত্যি সত্যি তিনি ছিলেন জীবন্ত দৃষ্টান্ত ।কেমন ছিল তাঁর সেই ভাগ্যবান ভক্তকুলের অভিজ্ঞতা যাঁরা তাঁর খুব কাছাকাছি আসার সুযোগ পেয়েছিলেন? তিনি ছিলেন মহাকাশের মতোই বিশাল, উদার, গভীর, দরাজ, স্থির ও শান্ত - যাঁকে টলাতে পারত না কোন ঝড়ঝাপটা, উত্তেজনা, দুর্ঘটনা, অপযশ, আনন্দ বা দুঃখ ।কোন ঋতুর কোনও প্রভাব তাঁর উপর পড়ত না। অসীম অনন্ত আকাশের মতোই তিনি সমস্ত মানুষের মধ্যেই সমান ভাবে বিতরণ করতেন তাঁর স্নেহ - ভালবাসা, তাদের সম্পদ - সমৃদ্ধি, বিদ্যা বুদ্ধি, জ্ঞান, পাপ ও পূণ্যের কোন বিচার না করেই। এমনকি তাঁকে যারা বিবিধ অপ্রয়োজনীয় অর্থহীন সব প্রশ্ন করত, বিন্দুমাত্র বিরক্ত না হয়ে পরম ধৈর্য্যের সঙ্গে তিনি তাদের অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করতেন।
জয় রাম 

গুরু কৃপাহি কেবলম্
No comments:
Post a Comment